আঞ্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়ার ব্যবস্থাপনায় সারা বিশ্বের বৃহত্তম ৫৪তম জশনে জুলুস আজ,সদারত করবেন পীরে বাঙাল সাবির শাহ।
আজ ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এ দিনে পৃথিবীতে শুভাগমন করেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা (দ)। সারা পৃথিবীতেই মুসলমানদের মধ্যে গভীর ভাবগাম্ভীর্যে জাঁকজমকপূর্ণভাবে মুমিনগণ ঈদ উদযাপন করে থাকেন।
বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মত বাংলাদেশে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারীরা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ) উপলক্ষে জশনে জুলুসসহ নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করে থাকে। পাড়ায় পাড়ায় গরু-মহিষ জবাই করে ফাতেহাসহ ইসলামী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আজ ১২ রবিউল আউয়াল ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে জশনে জুলুস বের করে সুন্নী মুসলমানরা। পুরো রবিউল আউয়াল মাসজুড়ে শহর – বন্দর, গ্রামে – গঞ্জে প্রতিটি সমাজ,পরিবার,দাপ্তরিক ও নিজস্ব পরিবেশে জশনে জুলুস,মিলাদ মাহফিল,সীরাতে রাসুল (দঃ) উপর আলোচনা,সভা,সেমিনার,সিম্পোজিয়াম, স্মারক আলোচনা,বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, র্যালী,ইসলমিক কুইজ ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে।
আয়োজকদের মতে, এবারের জশনে জুলুসে আগত নবী প্রেমিকদের অংশগ্রহণ ১ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।
দেশের সবচেয়ে বড় জশনে জুলুসটি চট্টগ্রামে আয়োজন করে থাকে আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে এ জুলুসের প্রবর্তন করেন হযরত সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রা)।
শুরুতে চট্টগ্রামে এ আয়োজন হলেও পরবর্তীতে তা ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশসহ বিশ্বব্যাপী। গত ৫৩ বছর ধরে ৯ রবিউল আউয়াল ঢাকায় ও ১২ রবিউল আউয়াল চট্টগ্রামে আনজুমান ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় এ জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
পবিত্র কোরআনের সুরা আম্বিয়ার ১০৭ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে বলেছেন, ‘‘ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতাল্লিল আলামিন’—আল্লাহ পাক রাসুলকে (দ) সমগ্র সৃষ্টির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তিনি শুধূমাত্র মানুষের জন্য কিংবা শুধুমাত্র মুসলমানের জন্য নবী হিসেবে প্রেরিত হননি। তিনি সমগ্র সৃষ্টির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন।
মহান আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন “কুল বিফদলিল্লাহি ওয়াবিরাহমাতিহি ফবেজালিকা ফালয়াফরাহু হুয়া খায়রুম মিম্মা ইয়াযমাউন।” অর্থাৎ হে প্রিয় হাবীব আপনি বলে দিন, তারা যেন আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত প্রাপ্তিতে খুশি উদযাপন করে উক্ত খুশি ও আনন্দ তাদের সমুদয় সঞ্চয় থেকে অতি উত্তম। তো, রাসুলের চেয়ে বড়ো নেয়ামত কী আছে একজন মুসলমানের জীবনে। তাই হুজুর আল্লামা তৈয়ব শাহ (র) এ ঈদে মাওলিদিন্নববী সেলিব্রেশন (উদযাপন) সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে, সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করতে এ জুলুসকে মাধ্যম হিসেবে নিয়েছেন।’
এখানে শরীয়ত বহির্ভুত কোনো কাজ হয় না, সে সুযোগও নেই। জুলুসে রাসুলের উপর দরুদ পড়া হয়, নাঁত পাঠ হয়, জিকির করতে করতে মানুষ দিনটি উদযাপন করে। আজকেও আমরা সবাইকে সাথে নিয়ে রাসুলে করিম (দ) এর মিলাদ উদযাপন করবো ইনশা আল্লাহ।
তাছাড়া ইসলামে শোক পালনের নিয়ম নির্ধারিত বিধায় ১২ রবিউল আউয়াল শরীফে শোক নয় বরং খুশি উদযাপন ঈমানের দাবী ও ইবাদতের যোগ্য। ইসলামী শরীয়ত তাই স্বীকৃতি দিয়েছে।
চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য পরিসরে এ জশনে জুলুস আয়োজন করা হয়েছে। এ জুলুস এখন চট্টগ্রামের মানুষের ইসলামী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে রূপ লাভ করেছে। চট্টগ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সারাবছর অপক্ষো করে তাকে এ জুলুসের জন্য। এ বছর জুলুসে নেতৃত্ব দেন পীর বাঙাল আল্লামা সাবির শাহ (মাজিআ)। জুলুসে আগত আশেকে রাসুলগণ কলেমা ও রংবেরংয়ের পতাকাসহ পীর সাবির শাহের নেতৃত্বে সকাল ১০টায় ষোলশহর আলমগীর খানেকাহ শরীফ হতে শুরু করে বিবিরহাট,মুরাদপুর, ২নং গেইট,জিইসি মোড় হয়ে পূণরায় জামেয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়ার জুলুস ময়দানে মিলাদুন্নবী (দঃ) উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ বিদেশের সুন্নি ওলামায়ে কেরাম বক্তব্য রাখেন।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply