সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফসল রক্ষা বাঁধ এখন কৃষকদের জন্য উল্টো দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে হাওরাঞ্চলে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে বিপুল পরিমাণ ফসল হুমকির মুখে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে স্থানীয় কৃষকরা ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে জলাবদ্ধ পানি বের করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
তাদের মতে, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এই বাঁধগুলো এখন আর ফসল রক্ষা করতে পারছে না, বরং পানি আটকে রেখে ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এলাকার সাধারণ কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থায়ী সমাধান দাবি করে আসছেন। কৃষকদের প্রস্তাব অনুযায়ী,
বেড়াডহর হাওর উপ-প্রকল্পে যাত্রাপুর ব্রিজ সংলগ্ন একটি সুইচগেট স্থাপন,
ছায়ার হাওর উপ-প্রকল্পের মাউথি বিল বাঁধ সংলগ্ন আরেকটি সুইচগেট নির্মাণ,
এবং প্রয়োজনীয় স্থানে আরও পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
তাদের দাবি, এসব ব্যবস্থা নেওয়া হলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে নদী খননের উদ্যোগ গ্রহণের কথাও জানিয়েছেন তারা, যাতে প্রাকৃতিকভাবে পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে।
কৃষকদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রতিবছরই তারা একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।,,
এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী শাখা কর্মকর্তা ও সদস্য সচিব উবায়দুল হকের সাথে হাওরের পানি নিষ্কাশন নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, হাওরের বাঁধের কয়েকটি স্পটে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে। নদীতে পানি বাড়লে সাথে সাথে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
শাল্লা উপজেলা কাবিটা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, শাল্লা উপজেলায় কয়েকটি স্পটে আপাতত আমরা পানি নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা করছি। পরবর্তীতে আমরা উনিশটি স্পটে রেগুলেটর বা সুইস গেইটের জন্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করবো।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply