সংবাদ সম্মেলনে পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ বলেন “জশনে জুলুস বেদাত নয়”।
১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দিনে পৃথিবীতে শুভাগমন করেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা (দ)। আবার একই তারিখে তিনি দুনিয়া থেকে পর্দা করেন। তাই এদিন আসলেই কি উৎসবের দিন নাকি বেদনারও দিন? এ নিয়ে সারা পৃথিবীতেই মুসলমানদের মাঝে মতবিরোধ আছে।
বাংলাদেশে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারীরা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ) উপলক্ষে জশনে জুলুসসহ নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করে থাকে। পাড়ায় পাড়ায় গরু-মহিষ জবাই করে ফাতেহার আয়োজন করা হয়।
আগামীকাল ১২ রবিউল আউয়াল ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে জশনে জুলুস বের করবে সুন্নী মুসলমানরা। এ দিনটা আসলেই উদযাপনের নাকি শোকেরও -সেই বিতর্কের উত্তর দিয়েছেন পাকিস্তান সিরিকোট শরীফের পীর হযরত আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ (মাজিআ)।
তিনি সিলসিলায়ে আলীয়া কাদেরিয়া তরিকায় বাংলাদেশে পীরে বাঙাল নামে পরিচিত। দেশের সবচেয়ে বড় জশনে জুলুস আয়োজন করে থাকে আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে এ জুলুসের প্রবর্তন করেন আল্লামা সাবির শাহ’র বাবা হযরত সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রা)।
শুরুতে চট্টগ্রামে এ আয়োজন হলেও পরবর্তীতে তা ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশডহ বিশ্বব্যাপী। গত ৫৪ বছর ধরে ৯ রবিউল আউয়াল ঢাকায় ও ১২ রবিউল আউয়াল চট্টগ্রামে আনজুমান ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় এ জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
শুরু থেকেই মুসলমানদের একটা পক্ষ এ জুলুসকে বেদাত বলে অভিহিত করে আসছে। তারা বলছেন, রাসুলের জীবদ্দশায় এ ধরনের কোনো জুলুস ছিল না, এটা নতুন সৃষ্টি, এসব কোরআন হাদিস সমর্থিত নয়।
তাদের বক্তব্যের জবাবে আল্লামা সাবির শাহ (মাজিআ) পবিত্র কোরআনের সুরা আম্বিয়ার ১০৭ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে বলেছেন, ‘‘ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতাল্লিল আলামিন’—আল্লাহ পাক রাসুলকে (দ) সমগ্র সৃষ্টির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তিনি শুধূমাত্র মানুষের জন্য কিংবা শুধুমাত্র মুসলমানের জন্য নবী হিসেবে প্রেরিত হননি। তিনি সমগ্র সৃষ্টির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন।
আল্লামা সাবির শাহ বলেন, ‘মহান আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন “কুল বিফদলিল্লাহি ওয়াবিরাহমাতিহি ফবেজালিকা ফালয়াফরাহু হুয়া খায়রুম মিম্মা ইয়াযমাউন।” অর্থাৎ হে প্রিয় হাবীব আপনি বলে দিন, তারা যেন আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত প্রাপ্তিতে খুশি উদযাপন করে উক্ত খুশি ও আনন্দ তাদের সমুদয় সঞ্চয় থেকে অতি উত্তম। তো, রাসুলের চেয়ে বড়ো নেয়ামত কী আছে একজন মুসলমানের জীবনে। তাই হুজুর আল্লামা তৈয়ব শাহ (র) এ ঈদে মাওলিদিন্নববী সেলিব্রেশন (উদযাপন) সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে, সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করতে এ জুলুসকে মাধ্যম হিসেবে নিয়েছেন।’পীর হযরত আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ (মাজিআ)
তিনি বলেন, ‘এখানে শরীয়ত বহির্ভুত কোনো কাজ হয় না, সে সুযোগও নেই। জুলুসে রাসুলের উপর দরুদ পড়া হয়, নাত পড়া হয়, জিকির করতে করতে মানুষ দিনটি উদযাপন করে। আগামীকালও আমরা সবাইকে সাথে নিয়ে রাসুলে করিম (দ) এর মিলাদ উদযাপন করবো ইনশা আল্লাহ।’<span;> তাছাড়া ইসলামে শোক পালনের নিয়ম নির্ধারিত বিধায় ১২ রবিউল আউয়াল শরীফে শোক নয় বরং খুশি উদযাপন ঈমানের দাবী ও ইবাদতের যোগ্য।
শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের ষোলশহরে আলমগীর খানকাহ শরীফে জশনে জুলুস উপলক্ষে আনজুমান ট্রাস্ট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও সৈয়দ মেহমুদ আহমেদ শাহ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন মিডিয়া কমিটির আহবায়ক আমির হোসেন সোহেল। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আনজুমান ট্রাস্টের সেক্রেটারি জেনারেল আনোয়ার হোসেন। ট্রাস্টের সিনিয়র সহ সভাপতি মনজুর আলম, এডিশনাল সেক্রেটারি আলহাজ মুহাম্মদ শামসুদ্দিন, জয়েন্ট সেক্রেটারি সিরাজুল হক, জয়েন্ট সেক্রেটারি গিয়াস উদ্দিন শাকের, ফিন্যান্স সেক্রেটারি কমরুদ্দিন সবুর, প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, গাউসিয়া কমিটির মুখপাত্র এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মিডিয়া কমিটির সদস্য সচিব অধ্যক্ষ আবু তালেব বেলাল।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৫৪ বারের মতো চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য পরিসরে এ জশনে জুলুস আয়োজন করা হচ্ছে। এ জুলুস এখন চট্টগ্রামের মানুষের ইসলামী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে রূপ লাভ করেছে। চট্টগ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সারাবছর অপক্ষো করে তাকে এ জুলুসের জন্য। এ বছর জুলুসে নেতৃত্ব দেবেন পীর বাঙাল আল্লামা সাবির শাহ (মাজিআ)। ইতিমধ্যে জুলুসের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply