১৯৯৬ সালে তেহরিক-ই-ইনসাফ রাজনৈতিক পার্টি পার্টি গঠন করে,সবাইকে চমকে দেন ইমরান।
খেলার মাঠ ছেড়ে রাজনীতির মাঠে নামায়,
তাকে নিয়ে সমালোচনা ও হাস্যরস তৈরি হয়েছিল।
ক্রিকেটের অলরাউন্ডার রাজনীতির কঠিন মারপ্যাচের কী জানেন,এ প্রশ্ন নিয়ে তৎকালীন রাজনীতিবিদরা,মিডিয়া সরগরম করে তুলেছিলেন।
দল গঠনের পরের বছরই পাকিস্তানের জাতীয় ইলেকশনে, দুটি আসনে ভোটযুদ্ধে নামেন ইমরান খান। দুই আসনেই খালি হাতে ফেরেন তিনি।
দলের ভরাডুবি বলতে যা বুঝায় তা-ই হলো।
১৯৯৯ ইংরেজি থেকে ২০০৮ ইংরেজি পর্যন্ত
দেশটির ক্ষমতায় থাকা শাসনকর্তা পারভেজ মোশাররফের, কঠোর সমালোচনায় মুখর ছিলেন তিনি। দলের পরিচিতি বাড়াতে ক্রিকেটার ইমেজটাই
কাজে লাগান ইমরান খান। এরই মধ্যে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের শিরোনামে, জায়গা পেয়ে যান তিনি।
২০১৩ ইংরেজিতে দেশটির জেনারেল ইলেকশনে
ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে ব্যাপক প্রতিবাদের ডাক দেন ইমরান। মাত্র ১৯ শতাংশ ভোট পায় ইমরানের পিটিআই, আবারও ভরাডুবি তাঁর দলের।তবে এ হতাশাজনক ফলাফলের পর, রীতিমতো পুনর্জন্ম ঘটে পিটিআই বা তেহরিক-ই-ইনসাফের।
২০১৩ সালে ইলেকশনে নিজ আসনে জয়ের পর
সংসদ সদস্য হয়ে রাজনীতিতে নতুন রূপে
দেখা যায় ইমরান খানকে।
বিরোধী দলের ভূমিকায় নামে তার পার্টি।
সরকারের সমালোচনায় সর্বদা মুখর থাকেন তিনি।
জঙ্গিবাদের প্রতি তাঁর উদার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পাওয়ায়, তীব্র সমালোচিত হয়েছেন তিনি।
তাঁকে নিয়ে সমালোচনার পাহাড় থাকলেও
সাধারণ মানুষের কাছে তিনি, দিন দিন জনপ্রিয় হতে থাকেন দুটি কারণে।
প্রথমত দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং দ্বিতীয়ত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে
তিনি সোচ্চার হয়ে ওঠেন। পাকিস্তানের তরুণ সমাজের কাছে ইমরান খানের বিপুল জনপ্রিয়তা
ধীরে ধীরে গোটা পাকিস্তানে ছড়িয়ে যায়।
২০০২ সালে পাকিস্তানের জেনারেল নির্বাচনে,
একটি আসন পেয়েছিল ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ। ২০১৩ ইংরেজিতে ইমরান মরিয়া ছিলেন জয় নিয়ে কিন্তু অস্বচ্ছতা আর দুর্নীতির কজে ডিফিট হয়েছেন, এমন অভিযোগ ছিল তাঁর।
২০১৮ ইংরেজি সালের ইলেকশনে,
জনমত ও বুথফেরত সমীক্ষায় পাল্লা ভারী ছিল,
তেহরিক-ই-ইনসাফের পক্ষে। ঘটে ছিলও তাই,
ছিলেন পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের মারকুটে খেলোয়াড়, হলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
ক্রিকেট ছেড়ে ২২ বছর সংগ্রাম করার পর,
পাকিস্তানে নিজের নেতৃত্ব স্থাপন করতে সক্ষম হন তিনি।
লেখক : মোঃ হাফিজুর রহমান চৌধুরী
সিনিয়র শিক্ষক, বানিয়াচং সিনিয়র ফাযিল (আলিয়া) মাদরাসা, বানিয়াচং-হবিগঞ্জ।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply