এম এ মজিদ- সম্পুর্ণ অন্ধ আপন দুই বোন শাহানা ও সাবানার সাহায্যার্থে দেশ এবং বিদেশের সুহৃদয়বান ব্যক্তিরা ২৭ এপ্রিল ২০২১ ইং পর্যন্ত সর্বমোট ৭৫ হাজার ৮১৯ টাকা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে অন্ধ দুই বোন ও তাদের বৃদ্ধা মায়ের খাবার ও আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটানোর জন্য প্রথমবার নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয়বার একজন ব্যক্তি সরাসরি আরও ৪ হাজার টাকাসহ মোট ১৯ হাজার টাকা প্রদান করেছেন। অবশিষ্ট ৫৬ হাজার ৮১৯ টাকা জমা আছে। শাহেনা ও শাবানাকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ছোট বহুলা গ্রামে ৪ ক্ষের কৃষি জমি বন্ধক রেখে দেয়ার লক্ষ্যে এসব টাকা জমা করা হচ্ছে। প্রতি ক্ষের জমি ৫০ হাজার টাকা দরে ৪ ক্ষের জমি ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বন্ধক রেখে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যেহেতু শাহানা ও শাবানা পুরোপুরি অন্ধ, তাদের মাও বৃদ্ধা অসুস্থ সেহেতু অন্য কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। ২০ এপ্রিল পর্যন্ত অন্ধ শাহেনা ও শাবানাকে যারা আর্থিক সহযোগিতা করেছেন তারা হলেন ১। শফিকুল ইসলাম কামাল ৫হাজার টাকা, ২। মঈনুদ্দিন আহমেদ কাউছার ১০ হাজার টাকা, ৩। আব্দুল মোতালিব ৬ হাজার টাকা, ৪। ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী নয়ন দুই বারে ১৪ হাজার ২৫৯ টাকা, ৫। ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী নয়নের এক বন্ধু ৫ হাজার টাকাসহ ৪০২৫৯ টাকা। সাংবাদিক শোয়েব চৌধুরীর পরিবার থেকে তাদেরকে খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়েছে। ২০ এপ্রিল এর পরে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত যারা আর্থিক সহযোগিতা করেছেন তারা হলেন- ৬। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউসিবিএল কর্মকর্তা ৫ হাজার টাকা, ৭। বৃটেন প্রবাসী শামসুদ্দিন আহমেদ ১০ হাজার টাকা, ৮। ডাক্তার সোহাগ ৩ হাজার টাকা, ৯।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মহিলা মানবাধিকার নেত্রী ও লেখিকা ১০ হাজার টাকা, ১০।চুনারুঘাটের আব্দুল মালেক ৫শত টকা, ১১। জগদীশপুরের আব্দুল মতিন ৩ হাজার ৬০ টাকা, ১২। এডভোকেট সেলিম আহমেদের মাধ্যমে একজন প্রবাসী মহিলা ৪ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ৭৫ হাজার ৮১৯ টাকা। এর মধ্যে নগদ ১৯ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৫৬ হাজার ৮১৯টাকা ব্যাংকে জমা আছে। কাংখিত লক্ষ্যে না পৌছা পর্যন্ত সপ্তাহে একদিন অন্ধ শাহেনা ও শাবানার জন্য প্রদত্ত অর্থের আপডেট প্রদান করা হবে। অন্ধ শাহেনা ও শাবানার করুণ অবস্থা জেনে অনেকেই তাদের পাশে দাড়িয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই তাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। শাহেনা ও শাবানার জীবন কাহিনী অত্যন্ত করুন। একজন জন্ম থেকেই অন্ধ, অন্যজন জন্মের কিছুদিন পর থেকে অন্ধ। তাদের বাবা নেই। মা অসুস্থ এবং বৃদ্ধা। খেয়ে না খেয়ে তাদের জীবন চলে। প্রতিবেশীরা তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসলেও একাধারে কতদিন, কতমাস, কত বছর অন্ধ মানুষগুলোর পাশে থাকা যায়। মাঝে মাঝে তাদের চিকিৎসারও প্রয়োজন হয়। অন্ধ মানুষগুলোর জন্য নেই নূন্যতম সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন একটি বাথরুম। জীর্ণশীর্ণ ঘরে তাদের বসবাস। বসতবাড়ির নির্দিষ্ট কিছু জায়গা ছাড়া অন্য কোথাও তারা যেতে পারে না। প্রতিবেশীদের ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের হাত ধরে ধরে তারা এই বাড়ি সেই বাড়িতে চলাচল করে। অন্ধ শাহেনা ও শাবানার জন্য একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে, তাদেরকে জমি বন্ধক রেখে দেয়া হবে, এমন সংবাদে তারা খুশিতে আত্বহারা। যা তাদের কাছে কেবলই স্বপ্ন। শাহেনা ও শাবানার চোখে এখন আনন্দ অশ্র“।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply