রাহাত মামুন স্টাফ রিপোর্টার : রাঙ্গুনিয়ায় দীর্ঘ ৭ মাস ধরে লাগাতার আন্দোলনের পরও ১৫ মামলার আসামী শরণাংকর থের গ্রেপ্তার না হওয়া এবং অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইনে উষ্কানিমূলক ও দেশবিরোধী বক্তব্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টির অভিযোগে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছে পদুয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনসাধারণ।
রোববার (১৭ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দশমাইল মুক্তিযোদ্ধা বাজারে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, সাম্প্রদায়িক উস্কানি, ধর্মের নামে সরকারি বন উজাড়, জোরপূর্বক স্থানীয় নিরহ মানুষের জায়গা জমি দখল, ঘরবাড়ি উচ্ছেদ, অনলাইনে উষ্কানিমূলক বিবৃতি, হিন্দু সম্প্রদায়ের শশ্মান দখলসহ তার নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন বক্তারা। মানববন্ধনে হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিমসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যানারে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ অংশ নিয়েছেন। রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কের দুইপাশে দীর্ঘ এক কিলোমিটার লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবী সম্বিলিত বিভিন্ন ব্যানার ও প্লাকার্ড হাতে তার নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধন শেষে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মেম্বার। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পদুয়া ইউনিয়ন মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি বদিউজ্জামান বদি।
বক্তব্য দেন মুসলিম উম্মাহ ঐক্য পরিষদের সভাপতি মাওলানা হাকিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ওমর ফারুক, উপজেলা বৌদ্ধ সমিতির সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন বড়ুয়া, লুম্বিনী কানন মন্দির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি টিটু কুমার বড়ুয়া, পদুয়া ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক বিধু মুৎসুদ্দী, রাঙ্গুনিয়া পূজা উদযাপন পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি শৈবাল চক্রবর্তী, সদস্য প্রিয়তোষ কান্তি দে, সঞ্জয় দে, মুসলিম উম্মাহ ঐক্য পরিষদের মাওলান জিয়াউর রহমান, মো. রমজান আলী, মো. বাদশাহ, মো. সেলিম, রাঙ্গুনিয়া বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সহসভাপতি আশিষ বড়ুয়া, পদুয়া শিব মন্দিরের উপদেষ্টা পুলক চৌধুরী, ভগবানপুর ধম্মাংকুর বিহারের সভাপতি রাজন তালুকদার শিবলু, মঈন উদ্দিন মহির, মহির উদ্দিন রানা, জামাল উদ্দিন প্রমুখ।
বক্তারা আরও বলেন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ফলাহারিয়া গ্রামের শতাধিক একর বনের জায়গা দখল করে বৌদ্ধ ভিক্ষু শরণাংকর থের জ্ঞানশরণ বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে তার দখল থেকে রেহায় পাইনি হিন্দু ধর্মালম্বিদের দুই যুগেরও বেশি সময়ের শশ্মান। তিনি সেখানে বসবাসকারী হিন্দু মুসলমানসহ সাধারণ মানুষকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইনে উষ্কানিমূলক ও দেশবিরোধী বক্তব্য দিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। বক্তারা তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবী জানান।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply