আব্দুর রউফ আশরাফ।। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন ডে নিয়ে সবার কৌতূহল। আসলে ১৪ ফেব্রুয়ারি কী। কেন বা এতো প্রসিদ্ধ এ দিনটি। এ দিনটি নিয়ে যুবক-যুবতীদের এতো উচ্ছ্বাস কেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি নিয়ে আলেচনা-সমালোচনার ঝড় কেন। কাহারো কাছে নিন্দনীয়। কাহারো কাছে আনন্দের দিন কেন। আসুন ১৪ ফেব্রুয়ারির দিনের সাথে চেনাজানা হই। প্রকৃত ইতিহাস জানলে এ অগ্রহীত,কুসংস্কার থেকে বেঁচে থাকতে সহজ হবে। এবং প্রজন্মকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন ডে থেকে বাঁচাতে পারবো।
এক.
ভ্যালেন্টাইন’স ডে কী ? ভ্যালেন্টাইন’স কে ? গবেষকদের গবেষণা ও বিশ্লেষকদের বিশ্লেষনায়,বরেণ্য লেখকদের লেখার আলোকে জানা যায়, যীশু খ্রীস্টের জন্মের আগে চতুর্থ শতকে পৌত্তলিক মূর্তিপূজারিদের সমাজে বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচলিত ছিল। দেবতাদের পূজা করত। আবার এই দেবতাদের সম্মানে তারা বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান করতো। তাহাদের এক অনুষ্ঠানের কর্মসূচি ছিল যুবতীদের নামে লটারি ইস্যু করা। লটারিতে যে যুবতী যে যুবকের ভাগে পড়ে আগামী বছর এ দিন আসা পর্যন্ত যুবতীকে যুবক ভোগ করার প্রথা ছিল। অর্থাৎ লটারীর মাধ্যমে যুবতীদের অনুষ্ঠান। এই দিনে তারা আবার দেবতার নামে পশু জবাই করতো। এছাড়া আরো বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করতো। আর এ অনুষ্ঠানটি পালন করা হতো ১৪ ফেব্রুয়ারি।
এরপর খ্রীস্ট ধর্ম আবির্ভূত হল,তারা ইঞ্জিলের অনুসরণ করতো। খ্রীস্ট ধর্ম আসমানি ধর্ম হিসাবে তারা এ ধরনের কু-সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন। শেষ পর্যন্ত এতটুকু করছেন যে,আগে অনুষ্ঠানটি ছিল দেবতার নামে। এখন থেকে হবে পাদ্রীর নামে। অর্থাৎ যুবতীর নামে আর লটারি হবে না। লটারী হবে পাদ্রীর নামে। যে যুবকের ভাগ্য পাদ্রীর নাম আসবে, সে যুবক পাদ্রীর সংস্পর্শে এক বছর অতিবাহিত করবে। ৪৭৬ সালে প্রস্তাব করা হল দিবসের নাম পরিবর্তন করা দরকার। আগে ছিল একজন দেবতার নামে। এটা পরিবর্তন করে তাদের একজন ছিল যাজক যার নাম ছিল ভ্যালেন্টাইন। ৪৯৬ ইংরেজীতে তার সম্মানে এই দিবসের নাম করা হয় ভ্যালেন্টাইন’ ডে।
দুই.
আরেকজন ইসলামী চিন্তাবিদ তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন। এই ভ্যালেন্টাইন হল সেই ভ্যালেন্টাইন যাকে রোমান রাজারা কারাবন্দী করে রেখেছিল। তিনি মুক্তি হওয়ার পর কারাগারের প্রধান রক্ষকের মেয়ের প্রেমে পড়েন। মৃত্যুর পূর্বে যাজক একটি চিরকুট লেখে যান। এই জন্যে খৃস্টান সমাজের প্রেমিকদের যাজক হিসাবে খ্যাতি লাভ করেন। তিনি মারা যাওয়ার পর ১৪ ফেব্রুয়ারিতে পালন করা হয়।
তিন.
ভিন্ন একটা সুত্রে পাওয়া যায়, এক রোমান সম্রাট ঘোষণা করেছিল, তার সেনাবাহিনী কেহ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না। কারণ যুদ্ধের ময়দানে যদি স্ত্রীর কথা স্মরণ হয়। তাহলে সে অন্য মনস্থ হয়ে পড়বে। এবং জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করতে পারবে না। তাই তাদের বিয়ে করতে দেবে না। এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত দশ বছর স্থায়ী হয়। দশ বছরের মাথায় ১৪ ফেব্রুয়ারি এই দিনে এক সৈনিক সম্রাট,সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে দাম্পত্য জীবনে পদার্পণ করেন। সেই কারনে এই দিনটিকে ভালোবাসা দিবস হিসাবে নামকরণ করা হয়।
ভ্যালেন্টাইন ডে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে দেশে কিছু সংখ্যক যুবক-যুবতীরা অত্যান্ত উচ্ছ্বাসিত হয়ে বরণ করে এবং এদিনটির জন্যে অপেক্ষায় থাকে। মনে করে এদিনটিতে বাঙ্গালির সংস্কৃতি। অথচ অপসংস্কৃতি জঘন্যতম এ দিনটি। এক শ্রেণির যুবক-যুবতী ১৪ ফেব্রুয়ারিতে ভালোবাসা দিবসের শ্লোগান দিয়ে অশ্লীল ও বেহায়াপনায় নিমজ্জিত হয়।
তাদের উচিত প্রকৃত ইতিহাস পড়ে সংস্কৃতি আর অপসংস্কৃতির তফাৎ করা। এবং অপসংস্কৃতি থেকে বেঁচে থাকা।
প্রিয় পাঠক/পাঠিকা আসুন এই অপসংস্কৃতির ভয়াল থাবা থেকে নিজেকে আড়ালে রাখি এবং প্রজন্মকে বাঁচিয়ে রাখি
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply