হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ১নং উত্তর পূর্ব ইউনিয়ন ০৯ নং ওয়ার্ড মজলিশপুর গ্রামের অসহায় বৃদ্ধা মহিলা ফাতেমা বিবিকে ভিটা মাটি থেকে উচ্ছেদ করতে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে রাজাকার ইলিয়াছ এবং ভূমিদস্যু আব্দুল মালিক বাহিনী।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে (২১ ডিসেম্বর) বুধবার হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধা নারী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,জাল জালিয়াতির মাধ্যমে অসহায় বৃদ্ধা নারী ফাতেমা বিবির ভিটে বাড়ী থেকে ৫০ অযুতাংশ ভূমি নিজ নামে রেকর্ড করিয়ে নেন মজলিশপুর গ্রামের মৃত এশাই উল্লার পুত্র আব্দুল মালিক মাষ্টার। শুধু তাই নয় চলাচলের ৮১ হাত লম্বা রাস্তায় প্রাচীর তৈরী করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছে আব্দুল মালিক গংরা।
এসব বিষয়ে ফাতেমা বিবি এবং আব্দুল মালিক গংদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে । অসহায় ফাতেমা বিবিকে তার নিজ নামীয় বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছিল আব্দুল মালিক বাহিনী। নিজেদের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে এবং ফাতেমা বিবিকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে গত ১৭ ডিসেম্বর ফাতেমা বিবি,তার পুত্র জুয়েল মিয়া এবং স্থানীয় তুফাজ্জল আলীকে অভিযুক্ত করে বানিয়াচং থানায় আরেকটি নতুন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আব্দুল মালিক মাষ্টার।অভিযোগ তদন্ত করতে মজলিশপুর গ্রামে যান বানিয়াচং থানা পুলিশের এসআই রাকিব।এলাকাবাসীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত শেষে পুলিশ কর্মকর্তা চলে যান প্রধান সড়কে।এসময় ফাতেমা বিবির বাড়ির পিছন দিকে প্রবেশ করেন রাজাকার ইলিয়াছ, আব্দুল মালিক এবং তার পুত্র কাজি শাহিন।বাড়িতে ডুকেই রাজাকার ইলিয়াছ এবং অন্যান্য অভিযুক্তরা ফাতেমা বিবিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং তার হাত পা ভেঙ্গে দিবে মর্মে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।বিষয়টি তাৎক্ষণিক সড়কে অবস্থানরত পুলিশ ও স্থানীয় মেম্বারকে অবগত করেন ফাতেমা বিবি।
এ বিষয়ে মজলিশপুর গ্রামের প্রবীণ পঞ্চায়েত ব্যক্তিত্ব তুফাজ্জল আলী বলেন,ভূমিদস্যুরা জালিয়াতির মাধ্যমে ওই অসহায় নারীকে ভিটেমাটি ছাড়া করার পায়তারা করছে।পূর্ব বিরোধের সূত্র ধরে ভূমিদস্যুরা আমাকে এবং ওই অসহায় নারীকে জড়িয়ে হবিগঞ্জের বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিথ্যা এবং বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে।আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ওইসকল ভূমি দস্যুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি
ভুক্তভোগী বৃদ্ধা ফাতেমা বিবি জানান,আমাকে ভিটেমাটি ছাড়া করতে উঠে পড়ে লেগেছে আব্দুল মালিক বাহিনী।আমার চলাচলের রাস্তায় বাধা প্রদান করছে।একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানি করে চলছে। শুধু তাই নয় তাদের ইন্দনে মহান বিজয়ের মাসে আমাকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে মজলিশপুর গ্রামের রাজাকার ইলিয়াছ।
উল্লেখ্য- ১৯৭১ সালে রাজাকার ইলিয়াছ পাকিস্তানি পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগী হয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে।রাজাকার ইলিয়াছ স্থানীয় আব্দুল বারী হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত ছিল।সে বিএনপি জামাতের শাসনামলে স্থানীয় হাজী আব্দুল হক এবং তুফাজ্জল আলীসহ বঙ্গবন্ধুর ভক্তদের বিরুদ্ধে মিথ্যা এসিড মামলা দায়ের করেছিল।যা পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
রাজাকার ইলিয়াছ ও জিআর ০৫ খুনের আসামি নুর মাম্মদ গংদের বাংলাদেশ সরকারের ১নং খতিয়ানের খাল রকম একাধিক ভূমি ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসেবে দখল নিতে সহযোগীতা করেছে।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply