রাহাত মামুন,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’র ব্যবস্থাপনায় হুজুর কেবলা আওলাদে রাসূল, রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরীক্বত, মুর্শিদে বরহক্ব, হাদীয়ে দ্বীন ও মিল্লাত আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্’র (মা.জি.আ.) নেতৃত্বে আগামীকাল রোববার বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক ১২ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরির পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দঃ) অনুষ্ঠিত হবে।
পবিত্র জশনে জুলছের শোভাযাত্রাটি সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম বিবিরহাটস্থ ষোলশহরের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকাহ্-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে শুরু হয়ে বিবির হাট, মুরাদপুর, মির্জারপুল, কাতালগঞ্জ হয়ে অলিখাঁ মসজিদ চকবাজার, কেয়ারী মোড় প্যারেড ময়দানের পশ্চিম পার্শ্ব হয়ে চট্টগ্রাম কলেজ, গণি বেকারী (ডানে মোড়), খাস্তগীর স্কুল (ডানে মোড়), শহীদ সাইফুদ্দীন খালেদ রোড, আসকার দিঘী, কাজীর দেউড়ি (ডানে মোড়), আলমাস (বামে মোড়), ওয়াসা (ডানে মোড়) জিইসি, ২ নম্বর গেট হয়ে পুনরায় মুরাদপুর (বামে মোড়), বিবিরহাট হয়ে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা সংলগ্ন জুলুস ময়দানে দুপুর ১২টায় মাহফিল, নামাজে যোহর এবং নামাজ শেষে দো’য়া ও আখেরী মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে গতকাল শুক্রবার, হুজুর কেবলায়ে আলম ও তাঁর সফরসঙ্গীদ্বয় আল্লামা পীর সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (মা.জি.আ.) এবং সাহেবজাদা আওলাদে রাসূল, আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ (মা.জি.আ.) গতকাল রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে বাংলাদেশ বিমানযোগে শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন এবং মোটর শোভাযাত্রা সহকারে নগরীর ষোলশহর আলমগীর খানকাহ্-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়ায় পৌঁছেন।
আজ শনিবার হুজর কেবলায়ে আলম’র ইমামতিতে নামাজে যোহর, আছর, মাগরিব ও এশা উক্ত খানকাহ্ শরীফে অনুষ্ঠিত হবে।
আল্লাহ-রাসূল ও হযরাতে মাশায়েখ কেরামের সন্তষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জশনে জুলুছের র্যালী ও শোভাযাত্রাসহ নামাজে জুমাসহ অন্যান্য নামাজে অংশগ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় আনজুমান ট্রাস্ট’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মহসিন ও সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন উম্মতে মুহাম্মদি ও সিলসিলার আশেকানবৃন্দকে আহ্বান জানিয়েছেন।
‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় জুলুস’ স্বীকৃতি পেতে গিনেজে আবেদন
মহানবী (দঃ) জম্মোৎসব উপলক্ষে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে চট্টগ্রামে আয়োজিত জশনে জুলুসকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জুলুস হিসেবে রেকর্ড বইয়ে নাম তুলতে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। জুলুস আয়োজনকারী সংস্থা আনজুমান-এর রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট এই আবেদন করেছে।
শুক্রবার (৭ অক্টোবর) সকালে সংস্থাটির সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৯ অক্টোবর জুলুস পর্যবেক্ষণ করবে গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের ম্যানেজমেন্ট টিম।’
এদিকে জুলুসকে ঘিরে গত এক মাস আগে থেকেই চলছে নানা প্রস্তুতি। আয়োজকদের মতে, এবারের জশনে জুলুসে অর্ধকোটি মানুষের সমাগম ঘটবে। চট্টগ্রামের এই জুলুস হবে ৫০তম। জুলুসের অর্ধশত বর্ষকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে বাড়তি আয়োজন। পুরো নগরীতে এবার সাজ সাজ রব।
আয়োজন কমিটি সূত্র জানায়, আনজুমান ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় এই জুলুস ৯ অক্টোবর সকাল ৮টায় চট্টগ্রামের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকাহ-এ কাদেরিয়া সৈয়দিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে শুরু হবে। জুলুসে নেতৃত্ব দেবেন পাকিস্তান থেকে আগত আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ্। অংশগ্রহণ করবেন আল্লামা পরী সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ ও আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ।
গাউসিয়া কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার ঢাকা টাইমসকে জানান, ১৯৭৪ সালে (১৩৯৫ হিজরি) থেকে আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (র.) নির্দেশনা ও রূপরেখা অনুসারে দেশে সর্বপ্রথম জশনে জুলুস আত্মপ্রকাশ করে। সর্বপ্রথম জুলুস চট্টগ্রামের কোরবানিগঞ্জ বলুয়ারদীঘি পাড়ের খানকাহ এ কাদেরিয়া সৈয়দিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে শুরু হয়। আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় দেশের প্রথম জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দেন আনজুমান ট্রাস্টের তৎকালীন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব নূর মোহাম্মদ আল কাদেরী। আর ১৯৭৬ সালে হুজুরকেবলা তৈয়্যব শাহ (র.) বাংলাদেশে সফরে আসেন। এরপর তিনি নিজেই জুলুসে নেতৃত্ব দেন, যা ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। তিনি প্রতিবছর ৯ রবিউল আউয়াল ঢাকা এবং ১২ রবিউল আউয়াল চট্টগ্রামে আয়োজিত জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দেন।
তিনি আরও জানান, এবার জুলুসে অন্যান্য বছরের তুলনায় লোক সমাগম বেশি হবে। জুলুসে নেতৃত্ব দেবেন আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ্। জুলুসের শৃঙ্খলায় ৫-৬ হাজার আঞ্জুমান সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরা কাজ করবেন। সেই সঙ্গে থাকবেন গাউসিয়া কমিটির অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক। বুধবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকায় আসেন আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ্, আল্লামা পীর সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ ও আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply