রাহাত মামুন চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : নাহার আর্থিক দৈনতা ফেরাতে ৬ বছর আগে গেলেন সৌদি আরব। কিন্ত দীর্ঘ ৬ বছর চাকরি করলেও বেতনভাতা কিছু পাননি। গৃহ থেকে উদ্ধার করে গত জুলাইয়ে নুর নাহারকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় তিনি বেতনের ১৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ফেরত পেয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউল গনি ওসমানী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে নুর নাহারের বিয়ে হয়। স্বামী মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায়, বেকার স্বামীকে রেখে প্রবাস জীবনে গৃহকর্মী হয়ে পারি জমান নুর নাহার বেগম। তবে ভাগ্য বদলাতে গিয়ে প্রবাস থেকে আর ফিরতে পারেনি বাংলাদেশে। এমনকি পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পিতা আবুল কালাম মেয়েকে খুঁজতে বিভিন্ন জায়গায় ধর্না দিতে থাকেন।
পরে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোনে জানানো হয় সৌদি আরবে একটা মেয়ের খোঁজ পাওয়া গেছে। শুধু তার নাম এবং বাড়ি রাঙ্গুনিয়া বলতে পারছেন মাত্র।
পরে ইউএনও আতাউল গনি ওসমানী পরিবারের খোঁজ করতে থাকলে মেয়েটির বাবা আবুল কালামের সন্ধান পায়। ইউএনও এর মাধ্যমে আবুল কালাম যোগাযোগ করে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে। সেখান থেকে ৬ বছর পর জুলাই মাসে নুর নাহার বেগমকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। তবে তার দীর্ঘ ৬ বছরের পারিশ্রমিক না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পিতা আবুল কালাম ইউএনও এর শরণাপন্ন হলে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে পারিশ্রমিকের সেই ১৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা নুর নাহারের সৌদিকর্তার কাছ থেকে ফিরিয়ে এনে নুর নাহারের ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়।
নুর নাহারের বাবা আবুল কালাম জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার পর দীর্ঘ ছয় বছরে দেশে কোনো টাকা পাঠাননি নুর নাহার। এ প্রেক্ষিতে দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের পক্ষ থেকে নুর নাহারের সৌদি নিয়োগকর্তাকে খুঁজে বের করা হয়। দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে সৌদি নিয়োগকর্তার কাছ থেকে নিয়োগচুক্তির শর্ত মোতাবেক ছয় বছরের সমুদয় পাওনা বেতন ও ভাতা বাবদ মোট ৬৮ হাজার ১৭ সৌদি রিয়াল (১৯ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪৮) টাকা আদায় করা সম্ভব হয়।
নুর নাহারের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সোনালী ব্যাংক প্রতিনিধির সহায়তায় তার নামে সংশ্লিষ্ট সোনালী ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। ওই একাউন্টে তার সমুদয় পাওনা টাকা জমা করা হয়। সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) নুর নাহার বাংলাদেশে তার পাওনা অর্থ বুঝে পেয়েছেন।
সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। এছাড়া রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউল গনি ওসমানীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এবং দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply