র পরিবারের ১৭৮ জন সদস্যকে স্ক্রিনিং করে ১ জন যক্ষ্মা রোগী পাওয়া গেছে।
ডা. ফারিহা আলম মিহিকা, এমবিবিএস, এমপিএইচ, বিএসএমএমইউ ঢাকার নির্দিষ্ট এলাকায় ফুসফুসীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ পরিষেবার ওপর কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব বিষয়ক গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন। তিনি ছয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসেবাদানকারী ও যক্ষ্মা রোগীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এবং ২০২১ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়সীমার মধ্যে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে একটি ক্রস-সেকশনাল গবেষণা সম্পন্ন করেন।
গবেষণায় দেখা যায়, কোভিড-১৯ এর কারণে যক্ষ্মা স্ক্রিনিং উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হয় (১৬%-৩৫%)। সেবাগ্রহীতারা লকডাউনের কারণে সৃষ্ট পরিবহন সংকট (৯৫%) এবং কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হবার ঝুঁকির বিষয়কে প্রধানতম সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবাদানকারীর অভাব, কাজের চাপ বৃদ্ধি এবং কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়গুলো স্বাস্থ্যসেবাদানকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়।
ঢাকায় শিশু যক্ষ্মা শনাক্তকরণের প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে গবেষণা করেন ডা. মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন, এমবিবিএস, এমপিএইচ, নিপসম। একটি কোয়ালিটিটিভ গবেষণায় তিনি যক্ষ্মা আক্রান্ত শিশু, তাদের পিতামাতা এবং স্বাস্থ্যসেবাদানকারী সবমিলিয়ে ৩২ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক ও প্রচলিত স্টিগমা, ভুল ধারণা এবং শিশু যক্ষ্মা সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব, অপ্রতুল কন্টাক্ট ইনভেস্টিগেশন, রোগ নির্ণয়ে সীমাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবাদানকারী এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা শিশু যক্ষ্মা শনাক্তকরণের বাধাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
মমতাজ বেগম, এমপিএইচ, নিপসম স্বাস্থ্যসেবা কর্মী এবং রোগীদের মাঝে ঔষধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা বিষয়ক জ্ঞান ও মনোভাব সম্পর্কিত গবেষণা উপস্থাপন করেন। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সময়সীমার মধ্যে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তিনি একটি ক্রস-সেকশনাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। এই গবেষণায় তিনি ২৩২ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, যার মধ্যে ১০১ জন স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও ১৩১ জন রোগী। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ৯৩ শতাংশ চিকিৎসক ঔষধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা বিষয়টি সম্পর্কে ভাল জ্ঞান রাখেন। আর প্রায় ৬৯ শতাংশ নার্স এবং ৮২ শতাংশ রোগী এই বিষয় সম্পর্কে মোটামুটি জ্ঞান রাখেন।
অনুষ্ঠানে ড. মু: আনোয়ার হোসেন হাওলাদার আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত এসিটিবি ফেলোশিপ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং গবেষকদের তাদের প্রচেষ্টার জন্য সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আজকের উপস্থাপিত গবেষণাগুলো থেকে আমরা দেখলাম, গবেষণা করার পাশাপাশি গবেষণালব্ধ ফলাফল আমাদের কার্যক্রমসমূহে বাস্তবায়ন করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও বাংলাদেশের যক্ষ্মা পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব হবে।’
মিস মিরান্ডা বেকমেন তার বক্তব্যে বলেন, ‘যক্ষ্মাকে ঘিরে অনেক সামাজিক ভুল ধারণা/স্টিগমা রয়েছে। যক্ষ্মা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, শনাক্ত ও চিকিৎসার মাধ্যমে যক্ষ্মায় মৃত্যুহার কমানো যায়, তা এই গবেষণাগুলোতে উঠে এসেছে। কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন, চিকিৎসা, এ বিষয়ক নানা গবেষণা ও নতুন জ্ঞান উদ্ভাবন এ সবই সম্ভব হয়েছে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির প্রতি আমাদের গুরুত্বারোপের ফলে। যক্ষ্মার ক্ষেত্রেও এসব ফলাফল পাওয়া যেতে পারে যদি যক্ষ্মা নির্মূলে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ, আগ্রহ ও মনযোগ দেওয়া যায়।’
ডা. তাহমিদ আহমেদ ফেলোদের কাজের প্রশংসা করেন এবং তাদের গবেষণালব্ধ ফলাফলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘এই ফেলোশীপটি স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত পেশাজীবীদের যক্ষ্মা গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে সহায়তা করছে। উদ্যোগটি তরুণ গবেষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে যাতে ভবিষ্যতে তারা সতন্ত্রভাবে চিকিৎসা গবেষণা করতে পারে।’
আইসিডিআর,বি পরিচালিত ইউএসএআইডি’স এসিটিবি, বিএসএমএমইউ এবং নিপসমের সমন্বিত উদ্যোগে চারজন স্নাতকোত্তর চিকিৎসক/শিক্ষার্থীদের যক্ষ্মা বিষয়ক গবেষণা/থিসিস সম্পন্নের জন্য এই ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। এই উদ্যোগটি যক্ষ্মা সম্পর্কিত গবেষণার জন্য নতুন প্রজন্মের গবেষকদের একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, ইউএসএআইডি, বিএসএমএমইউ, নিপসম, গণমাধ্যম, আইসিডিডিআর,বি এবং বাংলাদেশে যক্ষ্মা নিয়ে কর্মরত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply