মিরু হাসান বাপ্পী, বগুড়া জেলা সংবাদদাতা
গত সপ্তাহে মধ্যরাতে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার পর লাফিয়ে বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর দিনেই বেড়েছে পরিবহন ভাড়া। এর প্রভাব পড়ছে এখন বাজারে। বাজারে খোঁজ নিলে দেখা যায়, দাম বাড়ার প্রতিযোগিতা চলছে। চালের দাম গত এক সপ্তাহে ৫টাকা থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দোকানীরা। চালের বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে। মোটা সিদ্ধ ধানের চাল দাম বেড়েছে ৫টাকা থেকে ৭টাকা পর্যন্ত। চিকন চালের দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা পর্যন্ত। এতে চালের দাম প্রতিকেজি ৮০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ঢাকার খুচরা বাজারে সবচেয়ে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৫০ থেকে ৫২ টাকা। চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৬৫ টাকা থেকে ৮০ পাকা কেজি দরে। অথচ জ্বালানী তেলের দাম বাড়ার আগে মোটা চালের দাম ছিল প্রতিকেজি ৪৬ থেকে ৪৭ টাকা। ডিমের হালি ৫০ টাকায় পৌঁছেছে। অতীতে কখনো ডিমের হালি ৫০ টাকায় উঠেনি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমে দাম বেড়েছে ২০ টাকা করে। ডিমের এই দাম বৃদ্ধিও উন্নয়নের বড় নজির হয়ে থাকবে।
মানুষের মাংস খাওয়ার উৎস হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি ও ফার্মে পোষা পাকিস্তানি মুরগি। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা ও পাকিস্তানি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। ৭০০ টাকা কেজি দরের খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়।
বাজারে আবারো বেড়েছে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম। খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ থেকে ১৯২ টাকা কেজি। তিনদিন আগেও খোলা সয়াবিন তেলের কেজি ছিল ১৬২ থেকে ১৬৬ টাকা। পাম তেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি। আগে যা ছিল ১৪০ টাকা কেজি।
বেড়েছে সব ধরনের সবজির দামও। কেজিপ্রতি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। এক সপ্তাহে আগে ছিল ৮০ টাকা। কাঁচামরিচ ২৪০ থেকে ২৭০ টাকা, এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ২০০ টাকা। পিয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা, আগে ছিল ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা। বরবটি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা, শসা ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আলু ৩০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, পটল ঢেঁড়স ও চিচিঙ্গা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজি বিক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, দু’-একটি ছাড়া প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দামের কারণে এমনটা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আদার দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ৫০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ৭০ টাকায় বিক্রি হওয়া আদার দাম এখন ১২০ টাকা। বড় দানা মসুর ডাল ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আগে ছিল ১০০ টাকা। দেশি মসুর ডালের কেজি ১৩০ টাকা, যা আগে ছিল ১২৫ টাকা। খেসারির ডাল ৫ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা হয়েছে। চিনির দাম কেজিপ্রতি ৭ টাকা বেড়ে ৮৭ টাকা হয়েছে।
বাজারের এই দাম বাড়ার ফলে ব্যায় কমিয়েও মানুষ সংসার খরচে সামাল দিতে পারছে না। দিশেহারা নিম্ন আয়, মধ্যম আয় ও সীমিত আয়ের মানুষ। বাজারের এই উত্তাপে সাধারণ দিশেহারা এদিকে মোমেন জানালেন বেহেশতের সুখের কথা।
জ্বালানির দাম বাড়ার উত্তাপে মানুষ নিম্ন আয়ের মানুষ যখন দিশেহারা তখন বর্তমান সরকারের এক উজির বললেন, দেশের মানুষ বেহেশতের শান্তিতে আছেন। জনগণের টাকায় সরকারি বাড়ি, সরকারি গাড়ি ও সরকারি বাজার খরচে জীবন চললে এমনটাই মনে হওয়ার কথা। এছাড়া এই বেহেশতবাসিদের চেলাচামুণ্ডারা আশে-পাশে আরাম আয়েশে আছেন। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটেপুটে বেহেস্তের আরাম ভোগ করছেন তারা। আর বাজারে জ্বালানি তেলের দামের উত্তাপ লেগেছে প্রতিটি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। ড. এ কে আবদুল মোমেন ঠিকই বলেছেন, তারা বেহেশতের শান্তিতে রয়েছেন। কারণ বাজারে এমন উত্তাপের পরও দেশ শান্ত আছে। প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় নামছে না। মোমেন ও তাদের চেলা-চামুণ্ডারা শান্তিমতই রাস্তায় ঘোরাফেরা করতে পারছেন এখনো।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply