রাহাত মামুন চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া, দুঃস্থ মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন ও আর্থিক অনুদানের অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠান আজ সোমবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাহমুদ উল্লাহ মারুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমান।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাধবী বড়ুয়া।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. সুমনী আক্তার, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ, জেলা ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম সরোয়ার কামাল দুলু, মহানগরীর সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, শিশু একাডেমির জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মুহাম্মদ নুরুল আবছার, জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক মো. সাঈদ হাসান ও সূর্যের আলো হিজড়া সংস্থার সভাপতি ফাল্গুনী হিজড়া প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে দুঃস্থ মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন ও আর্থিক অনুদানের অর্থ বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, অস্বচ্ছল, দুঃস্থ ও সুবিধাভোগীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এবার ৯২তম বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলা ও উপজেলায় দুঃস্থ মহিলাদের মাঝে মোট ১৫০টি সেলাই মেশিন ও ৪০ জন অস্বচ্ছল মহিলাকে ২ হাজার টাকা কওে ৮০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদানের অর্থ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব। এদেশের মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামে বেগম মুজিব যে কর্তব্যনিষ্ঠা, দেশপ্রেম, দূরদর্শী চিন্তা, বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তার ফলে জাতির পিতার পাশাপাশি তিনি আজ বঙ্গমাতার আসনে অধিষ্ঠিত।
এ দেশের রাজনীতিতে তাঁর অনন্য সাধারণ ভূমিকার জন্য চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এই মহীয়সী নারী ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সপরিবারে খুনিচক্রের বুলেটের আঘাতে নির্মমভাবে শহীদ হন।
ডিসি মমিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। এ লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলনের নেপথ্যে প্রেরণাদাত্রী ছিলেন ফজিলাতুন নেছা মুজিব। তিনি বঙ্গবন্ধুর গোটা রাজনৈতিক জীবন ছায়ার মতো অনুসরণ করে তাঁর প্রতিটি কাজে প্রেরণার উৎস হয়ে ছিলেন।
বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু যখন বারবার পাকিস্তানি শাসকদের হাতে বন্দি জীবন-যাপন করছিলেন, তখন আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের কাছে ছুটে যেতেন। তিনি তাদের বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা পৌঁছে দিতেন ও লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা যোগাতেন।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply