যেকোনো নারী নিজেকে কানেক্ট করতে পারবে রেহেনার সাথে : বাঁধন
Reporter Name
মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১
১৫৬
বার পড়া হয়েছে
বিনোদন প্রতিবেদকঃ রেহেনা মরিয়ম নূর। বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার কানের অফিসিয়াল বিভাগ ‘আঁ সার্তেইন রিগার্দ’-এ স্থান পাওয়া চলচ্চিত্রের নাম। এই ছবির কারণেই প্রথমবার কানের লাল গালিচা সম্মননা পেয়েছে বাংলাদেশের কোনো সিনেমার কৌঁশলীরা। সিনেমার গল্প তৈরী হয়েছে মেডিক্যাল কলেজের সহকারি অধ্যাপক ডা. রেহানা মরিয়ম নূরকে কেন্দ্র করে। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। তিনি এখন অবস্থান করেছেন ফ্রান্সের কান শহরে। সেখান থেকে ফোনে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাতকার নিয়েছেন আলমগীর কবির
কানের অফিসিয়াল সিলেকশনে আসায় কেমন লাগছে?
নিশ্চয়ই এটা ভীষণ আনন্দের, ভীষণ গৌরবের। অনেক অনেক ভালো লাগছে কারণ এত বড় অর্জন! বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় আমার নামটা লেখা থাকবে। আসলে এত বড় খুশি কিভাবে উপভোগ করতে হয়, প্রকাশ করতে হয় সেটাও আমার জানা নাই। এ কারণে এটা আমার জন্য অনেক গৌরবের।
রেহেনা মরিয়াম নূর প্রদর্শনের পর বাঁধভাঙা কান্নার কারণটা কি ছিল?
আসলে আমার জন্য পুরো সিনেমাটা দেখাটাই অনেক পেইনফুল। এর আগে আমি কখনো সিনেমাটা একসাথে দেখি নাই, আমার ডিরেক্টর দেখতে দেন নাই। পুরো সিনেমাটা দেখার সময়ই আমি কাঁদছিলাম। আর লাস্ট সিনটা আমার জীবনের চার-পাঁচটা খুবই ভয়ঙ্কর কুৎসিত ঘটনার মধ্যে একটা। ওই সিনটা দেখার পর আমার আসলে সাফোকেশন হচ্ছিল। যখন শুটিং করেছি তখনো অনেক বিপর্যস্ত হয়েছিলাম। দুই-তিন দিন লেগেছিল আমার নরমাল হতে। আসলে ওই সিনটা দেখার পরই কান্না করছিলাম। এর মধ্যে হঠাৎ যখন সবাই দাঁড়িয়ে ক্ল্যাপ করছিল, তখন আসলে এটা খুশিরও কান্না ছিল। ওইটা একটা আনন্দ, দুঃখ, বেদনা এবং সম্মান। আমার মনে হচ্ছিল ওইখানে আমার দেশকে সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান জানাচ্ছেন। তখন আমার একমাত্র এক্সপ্রেশন আসলে কান্নাই ছিল। আমি কী করব আসলে বুঝতে পারছিলাম না।
লালগালিচায় প্রথম বাংলাদেশ। প্রতিনিধি আপনি। বিষয়টি কেমন লাগছে?
লাল গালিচার সম্মাননা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের, গৌরবের এবং দায়িত্বের। যার জন্য আমাকে খুবই বুঝে সিলেক্ট করতে হয়েছে যে কোন কাপড়টা পরতে চাই। কারণ যখন বাংলাদেশের ইতিহাসে এই কথাটা লেখা থাকবে যে আমি ঢাকাই আড়ংয়ের জামদানি পরে লাল গালিচায় হেঁটেছি, এটা আসলে আমার জন্য আরো বেশি আনন্দের হবে। আমি সেটাই করেছি এবং আড়ংয়ের কাছে খুবই কৃতজ্ঞ যে অল্প সময়ে তারা এমন একটা আইডিয়া নিয়ে এসেছে। ব্লাউজটা করে দিয়েছে, এক্সক্লুসিভ জামদানি দিয়েছে। চার-পাঁচ দিনের মধ্য তারা এটা করেছে।
পুরস্কারপ্রাপ্তির ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?
আমি তো বিশ্বাস করি আমার ডিরেক্টর পুরস্কারটা পাবেন ইনশাআল্লাহ। কারণ সে ভীষণ মেধাবী। আমি জানি, কোনো একদিন ও অস্কারে যাবে, কানের জুড়ি মেম্বার হবে। আমি দেখতে পাই ওকে। সে খুবই মেধাবী এবং সৎ। ডেফিনেটলি আশাবাদী যে আমার ডিরেক্টর পুরস্কারটা পাবে। আর যেকোনো ক্যাটাগরিতেই পুরস্কারটি পাক না কেন, যদি পায় তাহলে সম্পূর্ণ কৃতিত্বটাই কিন্তু তার। কারণ সে সবাইকে দিয়ে কাজটা করাতে পেরেছে।
রেহানা মরিয়মে অভিনয় করাটা কতটা কঠিন ছিল? প্রস্তুতি কিভাবে নিয়েছেন?
রেহানার চরিত্রে অভিনয় করাটা আসলে খুব কঠিন ছিল আমার জন্য। প্রথমত রেহানা এবং বাঁধন ফিজিক্যালি খুব আলাদা। তারা বাহ্যিকভাবে একদম আলাদা। বাঁধন এবং রেহেনা একই রকম করে নিঃশ্বাসও নেয় না, একই রকম করে চোখের পলকও ফেলে না। তার পোশাক, কতাবার্তা, তার ভয়েস, ইমোশন সব কিছু ডিফারেন্স। বাঁধন-রেহেনা এবং রেহেনা বাংলাদেশ না, পৃথিবীর যে কোনো নারী রেহেনার সাথে নিজেকে কানেক্ট করতে পারবে। রেহেনার যে কষ্ট তা কোনো না কোনো স্টেজে আমরা ফিল করি। এইটা আসলে সবাই ফিল করতে পারবে।
রেহেনা মরিয়মের সাথে আজমেরী হক বাঁধনের মিল কতটুকু?
ডেফিনেটলি আমি রেহেনার ব্যাপারে খুবই এমপ্যাথেটিক (সহানুভূতিশীল)। আমার ওর জন্য অনেক কষ্ট হয়। কারণ আমার সেইম সাফোকেশনগুলো আছে। আমার নিজের একটা মেয়ে আছে। আমি অনেক ট্রমাট্রাইজট হয়েছি। এই প্রসেসটা আমাকে অনেক ট্রমা দিয়েছে। তবে এটা ডেফিনেটলি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময় ছিল। এই প্রসেসের মাধ্যমে আমি নিজেকে অনেক বোল্ড করতে পেরেছি। নতুনভাবে তৈরি করতে পেরেছি, যেটা খুবই দরকার ছিল। আমার জীবন আমার মতো আপন করে নেয়ার ডিসিশনটা যে আমি নিতে পেরেছি, সেটা অনেকাংশে রেহেনা এবং এই প্রসেস হেল্প করেছে।
এখানে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কোনো বিষয় বা অভিজ্ঞতা কী ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে ?
এটি একটি সার্বজনীন গল্প। সার্বজনীন গল্প না হলে ফ্রান্সের যারা দর্শক, যারা আমাদের ভাষা জানে না, যারা আমাদের কালচার চিনে না তারা আমার এবং রেহেনার কষ্টে হাউ মাউ করে কেঁদেছে। তারা পেইনটা রিলেট করতে পেরেছে। এটা একটা সার্বজনীন গল্প। ডেফিনেটলি আমাদের সাব কনটিনেন্টের প্রেক্ষাপট থেকে দেখানো। তবে গল্প এবং চরিত্রগুলো আমরা সবাই আসলে দেখতে পাই আমাদের আশপাশে।
চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলতে কতটা সম্পৃক্ত হতে পেরেছিলেন বলে মনে করেন?
এই প্রশ্নের উত্তরটা যদি আমার ডিরেক্টর দিতো তো খুব ভালো হতো। তবে আমি আমার এক শ’ ভাগ চেষ্টা করেছি। আমি সততার সাথে কাজটি করেছি। আমি চেয়েছি আমার সততা এবং পরিশ্রমে যেন কোনো ঘাটতি না থাকে। বাকিটা আমার ডিরেক্টর বলতে পারবেন আসলে।
কানে এই অংশগ্রহণ ও আলোচনা বাংলাদেশের ছবির প্রতি সবার আগ্রহ তৈরি করবে বলে আশা করেন?
আমার মনে হয় অলরেডি আগ্রহ তৈরি করেছে। আমি জানি না বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে পারছে কি না। কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মতো একটি জায়গায় সবাই শুধু আমাদের সিনেমার জন্য চিনছে। আমি জানি না, এটা মানুষ কতটুকু বুঝবে। অনেস্টলি আমরা সিনেমা নিয়ে আসছি। আমরা বাংলাদেশকে সাথে করে নিয়ে এসেছি। বাংলাদেশের সিনেমার যে ইমপ্রেশনটা স্বাদ তৈরি করে দিয়ে গেল। আমি মনে করি যে, এর ধারাবাহিকতা অবশ্যই বজায় থাকবে। আমি আমার দেশের মানুষের ওপর খুবই বিশ্বাসী। আমি জানি এখানে অনেক ট্যালেন্টেড ছেলেমেয়েরা আছে যারা কাজ করতে চায়। স্বাদ তো আসলে তাদেরকেও উৎসাহ দিয়েছে, ভালো কাজের জন্য মেধা, পরিশ্রম ও সততা জরুরি। সেই জায়গা থেকেও আমি অনেক বেশি আশাবাদী।
পরিচালক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ এর সাথে বাঁধন
কানের সময়টা কিভাবে উপভোগ করছেন?
ভীষণ ভালোভাবে সময়টা উপভোগ করছি। কিন্তু আমার ক্রনিক ডিপ্রেশন আছে। সেটা অনেক বেড়েছে। আমাকে মেডিসিন খেতে হচ্ছে। ব্রেকডাউন হচ্ছে মাঝে মাঝে। ওইটা আমাকে একটু ঝামেলা করছে। আর এমনিতে তো এটা এক্সিল্যান্ট সময়। এর চেয়ে সুন্দর সময় আমি জানি না আমার সন্তান হওয়ার পর জীবনে আর কখনো এসেছে কি না বা আসবে কি না। এরপর যেখানেই যাই না কেন, সেটা তো সেকেন্ড টাইম যাওয়া হবে। ফার্স্টটাইম বাংলাদেশকে কোথাও রিপ্রেজেন্ট করছি এইভাবে এবং সেটা কানস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এবং যে পরিমাণ সম্মান এখানকার মানুষ আমাদেরকে জানাচ্ছে এটা আসলে অকল্পনীয়।
Leave a Reply