1. kholilurrahman136@gmail.com : sm razu : sm razu
  2. dailyserabarta@gmail.com : editor :
  3. admin@wordpress.com : root :
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন

সিইউএফএল’র বর্জ্য ও অ্যামোনিয়ায় ১০ প্রজেক্টের ৩০ লাখ টাকার মাছ মরে ভাসছে খালে

Reporter Name
  • বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০২২
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

রাহাত মামুন, চট্টগ্রাম সংবাদদাতা

চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানির (সিইউএফএল) নির্গত গ্যাসের বর্জ্য খালে প্রবেশ করে বিষাক্ত হয়ে পড়েছে খালের পানি ও ১০টি মৎস্য খামার। বিভিন্ন সময়ে এ খালের পানি খেয়ে মহিষের মৃত্যুর ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে ইতিমধ্যে। তবে এবার ১ম মৎস্যজীবিদের খামারে পানি ঢুকে মারা গেছে ১০টি মাছের প্রজেক্টের প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ।

বুধবার (১৩ জুলাই) ভোর রাতে আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের গোবাদিয়া এলাকায় সিইউএফএলের নির্গত গ্যাসের বর্জ্য পানি বিভিন্ন মাছের প্রজেক্টের প্রবেশ করে মারা গেছে প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এর আগের খালের পানি খেয়ে স্থানীয়দের বেশ কয়েকটি মহিষের মৃত্যু হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবিদের অভিযোগ, সিইউএফএল কারখানার বিষাক্ত পানি স্থানীয়দের না জানিয়ে খালে ছাড়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। কারখানার বিষাক্ত গ্যাসের পানি ছাড়লে আগে এলাকায় মাইকিং করে সতর্ক করা হতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে কোনো ধরনের মাইকিং ও সতর্ক ছাড়াই কারখানার বিষাক্ত পানি ছেড়ে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এতে স্থানীয়দের গরু-মহিষ মারা পড়েছে বার বার। এবার ক্ষতি হয়েছে মাছের প্রজেক্টসহ মৎস্যখামারীদের।

ঘটনার পর সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ খালের পানি সংরক্ষণ করে পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য নিয়ে গেছে। তবে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোন বক্তব্য জানা নাই।

গোবাদিয়া এলাকার মৎস্য খামারী মিটু চৌধুরী বলেন, আমার তিন একর মাছের প্রজেক্টের সব মাছ মরে গেছে। গত দুইদিন ধরে মরা মাছের দূর্গন্ধে এখানে বসাবাসও করা দায় হয়ে গেছে। প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে আমার।

তিনি আরো জানান, সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়ে বিষাক্ত পানি-বর্জ্য ছাড়াতে মৎস্য খামারীদের এ ক্ষতি হয়েছে। যথাযথ ক্ষতিপূরণও দাবি করেন এই মৎস্য খামারি।

স্থানীয় বারশত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.এ কাইয়ূম শাহ্ বলেন, সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ বিষাক্ত বর্জ্য ও অ্যামোনিয়া গ্যাস ছাড়ার কারণে কিছুদিন পরপর গরু-মহিষ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এবার মৎস্য খামারীদের ১০টি মাছের প্রজেক্টের মাছ মারা গেছে বিষাক্ত বর্জ্য ও অ্যামোনিয়া গ্যাসের পানিতে। একের পর এক এসব ঘটনা ঘটলেও সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

ক্ষতিগ্রস্থ জসিম উদ্দিন খান বলেন, আমার দুটি প্রজেক্টের চিংড়ি, কোরাল, টেংরা, তেলোপিয়া, রুই কার্পোসহ বিভিন্ন মাছ মরে প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

খোরশেদ আলম নামের আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বলেন, আমার ৩ কানির প্রজেক্টে প্রায় ৩ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে।

নুর মুহাম্মদ মেম্বার নামের আরেক ক্ষতিগ্রস্তের প্রায় ১ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে বলে জানান তিনি।

ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কারখানাটি বর্জ্যের পানি ছাড়ার আগে লাল পতাকা টাঙ্গিয়ে দেওয়া দিত। কিন্তু এবার পতাকা টাঙ্গানো হয়নি। পূর্বসতর্কতা ছাড়া বর্জ্যের পানি ছাড়ায় মৎস্যচাষীরা পানি আটকানোর কোনো ব্যবস্থা করতে পারিনি। ফলে যেসব ‍পুকুরে বিষাক্ত বর্জ্যের পানি ঢুকেছে সেসব পুকুরের সব মাছ মারা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, খামারীদের মাছ মারা যাওয়ার পর আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং পানি সংরক্ষণ করে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা হয়েছে। পানিতে কোনো বিষক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কি কারণে মাছ গুলো মারা গেছে তা জানা যায়নি।

 

সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
সেরাবার্তা © ২০২০, সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD