স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট-সুনামগঞ্জের বন্যার পরে এখন নতুন করে সারা দেশের প্রায় সতেরোটা জেলায় বন্যাপ্লাবিত হচ্ছে।
তারমধ্যে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে হবিগঞ্জের বন্যা৷
হবিগঞ্জ জেলার ৪ টা উপজেলার প্রায় এক হাজারের বেশি গ্রাম বন্যাপ্লাবিত হচ্ছে।
বানিয়াচং উপজেলার ১৫টা ইউনিয়নের মধ্যে সবকটি উপজেলা ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়ে গিয়েছে। বানিয়াচং সদর উপজেলায় এমন কোনো পাড়া-মহল্লা নাই যেখানে পানি আসে নাই। দুইদিন যাবৎ বৃষ্টিপাত না হলেও বন্যার পানি ক্রমশই বাড়ছে। আমাদের বাড়ীর সামনের রাস্তায়ও পানি চলে আসছে।
ইতিমধ্যে মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে উঠে ঠাঁই নিয়েছে।
আশ্রয় কেন্দ্র মানুষ গুলো কেমন আছে! তা জানতে এবং বানিয়াচং শাখার বাসদ এবং উদীচী এর উদ্যোগ বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ সরবরাহ করার জন্য বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েছিলাম।
আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা গুলো খুবই বাজে। আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থানরত বানভাসি লোকজনের সাথে কথা বললাম।
বানিয়াচং মেধাবিকাশ স্কুল এবং উপজেলা অডিটোরিয়ামে আশ্রয়কেন্দ্রের লোকজন এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো ত্রাণ পায়নি।
একই রুমে গাদাগাদি করে ৪/৫ টা করে পরিবারের লোকজন থাকে। মেধাবিকাশ স্কুল এবং উপজেলা অডিটোরিয়ামে যারা আছেন তাদের এখন পর্যন্ত সুপেয় খাবার পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশনের খুব বেশি সমস্যা হচ্ছেনা।
কিন্তু অন্যান্য আশ্রয়কেন্দ্রর গুলো অবস্থা খুবই খারাপ।
সুপেয় খাবার পানি নাই, ভালো পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নাই৷।
বুরুজ পাড়া স্কুলে যারা উঠেছেন তাদের অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। স্কুলেও পানি চলে আসছি। স্কুলের বাথরুমেও পানি চলে আসছে।।
তাছাড়াও আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে কতটা পরিবার আছে, কতজন লোকজন আছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নাই।
যেসব আশ্রয়কেন্দ্রে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে সেখানেও প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে!
প্রত্যেকটা আশ্রয়কেন্দ্রের লোকজন বলছে যে তাদেরকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে তা প্রতি দুই পরিবারের জন্য এক প্যাকেট করে!!
এটা হচ্ছে বানিয়াচং সদর উপজেলার চিত্র।
বানিয়াচং সদরের বাহিরের অবস্থা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো ধারণা করতে পারছি না৷ সেগুলোর অবস্থা আরো খারাপ হবে! এটাই স্বাভাবিক অনুমান।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply