1. kholilurrahman136@gmail.com : sm razu : sm razu
  2. dailyserabarta@gmail.com : editor :
  3. admin@wordpress.com : root :
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন

শাল্লা ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক মহিলা দর্জিকে কু-প্রস্তাব ইউএনও বরাবর অভিযোগ !

Reporter Name
  • রবিবার, ১৫ মে, ২০২২
  • ৭০ বার পড়া হয়েছে

শাল্লা প্রতিনিধি- সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৩নং বাহাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু একজন মহিলা দর্জিকে যৌন নিপীড়ন উদ্দেশ্যে কু-প্রস্তাবের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যা
বর্তমানে টক অব দ্যা শাল্লায় পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে চেয়ারম্যান এ অভিযোগ অস্বীকার করছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ১০মে চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু এবং তার পরিষদের মেম্বার ও বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান সজল চন্দ্র দাস উপজেলা সদরের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারে পূর্ণিমা হোটেলে খেতে যান। ওইসময়
ভ‚ক্তভোগী স্বামী পরিত্যাক্তা একই বাজারের মহিলা দর্জি ওই হোটেলে খেতে গিয়ে চেয়ারম্যান, মেম্বার ও আরো লোকজন দেখে হোটেলের বাইরে (ভিতরে
প্রবেশের কাছে) অপেক্ষা করতে থাকেন। এমন সময় চেয়ারম্যান তড়িঘড়ি করে হাত ধুয়ে বাইরে এসে ভ‚ক্তভোগী মহিলার গাঁ ঘেষে দাঁড়িয়ে মহিলাকে নানা রকম বিশ্রী কথাবার্তা ও কু-প্রস্তাব দিলে মহিলা লজ্জায় দূরে সরে যেতে চাইলে
চেয়ারম্যান মহিলার হাত ধরে টানা-টানি করে এবং মহিলাকে ইউনিয়ন অফিসে গিয়ে তার সাথে থাকলে দুই হাজার টাকা দেয়ারও প্রস্তাব দেয়। ওইসময় ভূক্তভোগী মহিলা সম্ভ্রম বাঁচাতে উচ্চস্বরে কথা বলিলে মেম্বার সজল চন্দ্র দাস এগিয়ে এসে চেয়ারম্যানকে উন্মত্ত অবস্থায় টেনে নিতে চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে ওইমহিলা দৌড়ে হোটেলে প্রবেশ করে ভিতরের কক্ষে গিয়ে রক্ষা পায়।
এবিষয়ে ভ‚ক্তভোগী মহিলার সাথে কলা হলে তিনি কেঁদে কেঁদে বলেন, পূর্ণিমা হোটেলের সামনে আমাকে দেখেই চেয়ারম্যান নান্টু বাবু দ্রæত আমার কাছে এসে আমার শরীর ঘেষে দাঁড়িয়ে আমার শরীরের হাত দেয় এবং কু-প্রস্তাব দেয়। আমি
লজ্জায় সরে যেতে চাইলে চেয়ারম্যান আমার হাত টেনে ধরে এবং তার সাথে রাত কাটালে দুই হাজার টাকা দেবে বলে আবারো আমাকে হাত ধরে টানতে থাকে। এমন সময় মেম্বার সজল চন্দ্র দাস চেয়ারম্যানকে নিয়ে যেতে চাইলে চেয়ারম্যান উন্মত্ত
অবস্থায় আমাকে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি দেখায়।
বিষয়টি নিয়ে পূর্নিমা হোটেলের মালিক পুলিন চন্দ্র দাসের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার রুটি তৈরীর চুলার সামনেই ঘটনাটি ঘটেছে। মহিলার কথাগুলো সত্য।
এবিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে আরো ভয়ংকর তথ্য। গত মার্চ
মাসে ওই চেয়ারম্যান তার পরিষদে কর্মরত ইউপি সচিবকেও প্রকাশ্য ভাবে লাঞ্ছিত করে। যা পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে মিটমাট করা হয়েছিল। তারও পূর্বে উক্ত চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড শাল্লা শাখা কার্যালয়ে উদ্যত অবস্থায় প্রবেশ করে শাখা কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ূমকে মারধর সহ অফিসের গুরুত্ব পূর্ণ ফাইলপত্র তছনছ ও অফিসে ব্যবহৃত
কম্পিউটার ভাংচুর করেন। এবিষয়ে শাল্লা থানায় উক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি মামলাও রেকর্ড হয়। যা বিজ্ঞ আদালতে প্রক্রিয়াধীন আছে। তবে উক্ত মামলায় চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু উচ্চ আদালত হতে অন্তরবর্তী কালীন (৪২দিনের) জামিন আনলেও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে নিম্ন আদালতে সারেন্ডার না করায় বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এবিষয়ে ৩নং বাহাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টুর মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, মহিলার অভিযোগ মিথ্যা। তবে ওইরাতে আমার মেম্বার সজল চন্দ্র দাসের উপস্থিতিতে রিলিফ নিয়ে মহিলার সাথে কথা হয়েছিল। আমি এইটুকুই
জানি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সংশ্লিষ্ট ইউপি মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান সজল চন্দ্র দাসের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি চেয়ারম্যানকে চলে আসতে বলেছি ও হাতে ধরে টেনেছি সত্য। তবে চেয়ারম্যান ওই মহিলাকে কি বলেছে আমি শুনিনি। ভ‚ক্তভোগী মহিলা চেয়ারম্যানের কাছে কোনো রিলিফ বা সরকারী ঘর
চেয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই মহিলা চেয়ারম্যানের কাছে রিলিফ বা ঘর চায়নি। তবে চেয়ারম্যান মহিলাকে অফিসে যেতে বলেছে।
এব্যাপারে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু তালেবের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ছুটিতে ছিলাম। তবে মেইলে অভিযোগটি দেখেছি। ছুটি থেকে এসে বিষয়টি দেখবো।

সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
সেরাবার্তা © ২০২০, সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD