শওকত হাসান, তাহিরপুর প্রতিনিধিঃ- সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় আগাম বন্যায় ও হাওর ডুবি থেকে এখন পর্যন্ত বেচে যাওয়া বোর ধানের ভান্ডার খ্যাত শনি ও মাটিয়ান হাওর সহ বাকি হাওর গুলোতে চলছে ধান কাটার হিড়িক। তবে এসব হাওর গুলোতে ধান কাটতে রয়েছে শ্রমিক সংকট, দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত মজুরি। শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত মজুরির কারণে কৃষক দ্রুত ধান ঘরে তুলতে বেচে নিয়েছে সরকারের ভর্তুকিতে দেয়া কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও রিপার মেশিন।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাযায়, দুর্যোগ মুহুর্তে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় উপজেলায় ৪৮টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও ১৯টি রিপার মেশিন মাঠে কাজ করছে।
কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে প্রতি কেয়ার ধান কাটতে খরচ হয় ১২থেকে সর্বোচ্চ ১৩শত টাকা। শ্রমিক দিয়ে ধান কাটলে শ্রমিকের খাওয়া খরছ বাদে ৫- ৬জন শ্রমিক লাগে প্রতি কেয়ারে, এছাড়াও ধান মাড়াই সহ নানা খরচ তো আছেই। এ হিসেবে অল্প সময়ে স্বল্প খরচে ধান কাটতে ও কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতেও সক্ষম এই আধুনিক কৃষিযন্ত্র।
উপজেলার বৃহত্তম হাওর শনি ও মাটিয়ান হাওরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকার কয়েক জন বড় কৃষকের উজান থেকে ২০-২৫জনের শ্রমিক দল (ব্যাপারী) এসেছে। তারা খলায় উড়া (থাকার ঘর) তৈরী করেছে এবং প্রতিদিন ধান কাটছে। কিন্তু ছোট ও মাঝারি কৃষকরা প্রতিবছর বাহির থেকে শ্রমিক আনলেও এবছর দুর্যোগ মুহুর্তে শ্রমিক আনতে ব্যর্থ হন তারা। ফলে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত মজুরির সমস্যা। কিন্তু এসব কারনে ধান কাটতে থেমে নেই কৃষকেরা। তারা কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে ধান কেটে মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তা ভর্তি করে খলায় নিয়ে আসছেন। দিন ভালো থাকলেই পরিবারের সকলে মিলে খলায় শুকিয়ে ঘরে তুলছেন ধান।
শনির হাওর পাড়ের বীরনগর গ্রামের কৃষক সুজন মিয়া বলেন, আমি এ হাওরে দশ কেয়ার (৩০ শতকে ১কেয়ার) ধান চাষ করেছিলাম কিন্তু বর্তমান দুর্যোগকালীন সময়ে শ্রমিক না পেয়ে খুব চিন্তিত ছিলাম। পরে কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে ৮ কেয়ার কেটে মাড়াই, ঝাড়াই করে খলায় নিয়ে এসেছি। বাকি ২কেয়ার কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে কাটবো। এ যন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুত ধান কাটে মাড়াই, ঝাড়াই করে বস্তা ভর্তি করে খলায় আনতে পেরেছি। এতে খরচ ও কষ্ট অনেক কম হয়েছে।
মাটিয়ান হাওর পাড়ের রতনশ্রী গ্রামের কৃষক কুলিন মিয়া বলেন, আমি প্রতি বছর ২-৩হাল (১২কেয়ারে ১হাল) জমি চাষ করি, জীবনেও মেশিন দিয়ে ধান কাটাইনি। এবছর শ্রমিক না পেয়ে ও অতিরিক্ত মজুরি থাকায় ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার’ মেশিন দিয়ে ধান কাটাচ্ছি। দুর্যোগ মুহুর্তে যদি ধান কাটার মেশিন ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার’ না থাকতো তাহলে আমাদের ফসল গড়ে তোলা সম্ভব হতনা। এই মেশিন দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে শ্রমিকের চেয়ে কম খরচে ধান কাটতে পেরেছি।
এছাড়াও একাধিক কৃষক জানান, যদি এই মেশিন উপজেলার প্রত্যেকটি এলাকায় কৃষকদের মাঝে স্বল্প মূল্যে সরবরাহ করা হয় তবে কৃষকরা আরও লাভবান হবে। ধানের উৎপাদন বাড়বে এবং খরচ কমবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান উদ-দৌলা বলেন, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বোর ধান চাষাবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ৪ শত ৯৫ হেক্টর জমিতে। তারমধ্যে শিলাবৃষ্টি ব্লাস্ট ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে ক্ষতি হয়েছে আনুমানিক ৩’শ হেক্টর। বর্তমানে উপজেলায় হাওর গুলোতে ৬৭শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এতে সরকারের শতকরা ৭০ভাগ ভর্তুকির কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের ভূমিকা অনেক। বর্তমানে উপজেলায় ৪৮টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন মাঠে ধান কাটছে। যদি হাওরে কোন দুর্যোগ না আসে তাহলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শতভাগ ধান কাটা হবে বলে আশা করেন।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply