শওকত হাসান, তাহিরপুর প্রতিনিধিঃ- সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি হওয়ায় নজরখালি বাঁধ ভেঙে টাঙ্গুয়ার হাওরে পানি ঢুকছে । এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রায় তিন হাজার একর জমির ধান।
আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১০টায় টাঙ্গুয়ার ওয়াচ টাওয়ারের উত্তর পাশে নজরখালি বাঁধ ভেঙে যায়। বাঁধ ভাঙ্গার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক নজরখালি বাঁধ পরিদর্শন করেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হান কবীর। তিনি বলেন, বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় টাঙ্গুয়া হাওরের সকল আপরবাঁধ উপচে হাওরে পানি ডুকছে। তিনি আরো জানান, নজরখালি বাঁধটি ভেঙ্গে গেছে। তবে এ বাঁধ টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন বাঁধ নয়। এই বাঁধটি আগে স্থানীয় কৃষকদের দাবির মধ্যমে টাঙ্গুয়ার হাওর উন্নয়ন কমিটি কে দিয়ে করানো হত। কিন্তু এবার তাদের দাবিতেই স্থানীয় কৃষকদের মাধ্যমে পি আই সি করে উপজেলা পরিষদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামান্য কিছু বরাদ্দ দিয়ে বাঁধটি করা হয়।
টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ের স্থানীয় কৃষক আহমেদ কবির বলেন, নজরখালি বাঁধটি টাঙ্গুয়ার হাওরের গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ। প্রতিবছর এ বাঁধটি হুমকির মধ্যে থাকে। এ বছর গত কয়েক দিন আকাশের বৈরী আবহাওয়ার কারনে ভারতের মেঘালয় থেকে আসা ঢলের পানি পাঠলাই নদীতে এসে বৃদ্ধি পায় এবং এই পানি বাঁধের সমান সমান হয়ে যায়। পরে স্থানীয় কৃষক ও গ্রামবাসী ৬/৭ দিন ধরে বাঁধটি ঠিকিয়ে রাকতে আপ্রাণ চেষ্টা করে। কিন্তু আজ সকালে নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়া প্রথম বাঁধের উপর দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও কৃষকদের চেষ্টার পরও আমাদের চোখের সামনেই পানির চাপেই বাঁধটি ভেঙ্গে যায়।
টাঙ্গুয়া হাওরপাড়ের গোলাবাড়ি গ্রামের খসরুল আলম বলেন, নদীর পানি এভাবে বাড়তে থাকলে যেকোনো সময় হাওর পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে টানা সাতদিন কাজ করেও বাঁধ রক্ষা করতে পারল না। তাদের চোখের সামনেই সোনার ফসল পানিতে ডুবে যাচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের দাবির মুখে সম্প্রতি টাঙ্গুয়া হাওরের তিনটি বাঁধ মেরামতের জন্য আট লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। যেন নদীর পানি বাড়লে প্রথম ধাক্কায় হাওরে যেন পানি ঢুকতে না পাড়ে।
অপরদিকে, নদীর পানি উপচে যেকোনো সময় লতিবপুর হাওরে পানি ঢোকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পানি ঢুকতে শুরু করলে প্রায় দুইশ একর জমির ধান হুমকির মুখে পড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
লতিবপুর হাওর পাড়ের কৃষক রিপচান হাবিব জানান, লতিবপুর হাওরে যদি ১৮’শ মিটার বাঁধ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওয়ায় নিতো তাহলে দুইশ একর জমি বাঁচাতে আমাদের এতো কষ্ট করতে হত না। আমরা হাওর পাড়ের কৃষক ও এলাকাবাসী হাওরটি বাঁচাতে দিন রাত শ্রম দিয়ে যাচ্ছি তবুও লতিবপুর পুরাতন বাঁধের অবস্থা সুবিধাজনক নয়।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তাহিরপুর শাখার কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান সেলিম বলেন, লতিবপুর হাওরটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাভুক্ত নয়। তাই ওই হাওরে কাজ করা আমাদের সম্ভব হয়নি। হাওরটিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নিতে দুই যুগ ধরে দাবি জানিয়েছে আসছেন হাওরের কৃষকরা।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply