বকুল আহমেদ তালুকদার শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি- সুনামগঞ্জের শাল্লায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) এর ভুলের
কারণে এবছর অকাল বন্যায় তলিয়ে যেতে পারে হাজারো একর জমির উৎপাদিত বোরো
ফসল। সেইসাথে এলাকার কয়েকশ’ কৃষক পরিবারের স্বপ্নও তলিয়ে যাবে পাউবো’র
ক্ষুদ্র একটি ভুলে।
ব্যক্ত যে, গত ২০১৭ সালে মার্চের শেষ ভাগে সুনামগঞ্জ জেলার সবকটি হাওরের
উৎপাদিত বোরো ফসল পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যায় তলিয়ে গেলে মাননীয়
প্রধানমন্ত্রি জননেত্রী শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জ পরিদর্শনে শাল্লায় আসেন।
নিজ চোখে এই হাওরাঞ্চলের কৃষকদের দূ:খ-দুরদশা দেখে উৎপাদিত বোরো ফসল
রক্ষায় পূর্বের ঠিকাদারি প্রথার অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত কৃষকদের মাধ্যমে বাঁধ
নির্মাণ/মেরামত কাজের সরকারি নির্দেশনা দেন এবং বাপাউবোকে সঠিক ভাবে সঠিক
সময়ে বাঁধ নির্মাণ/মেরামত কাজ বাস্তবায়ন করারও নির্দেশনা দেন। তারই
প্রেক্ষিতে গত ২০১৮ সাল থেকে শুরু হয় এ হাওরাঞ্চলে স্থায়ীভাবে বাঁধ
নির্মাণ কাজ। শুরু হয় পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) প্রথার। এর
পূর্বে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিটি হাওরে প্রয়োজনীয় স্থানে বাঁধ
নির্মাণে প্রি-ওয়ার্ক শুরু করে। ওইবছরই শাল্লা উপজেলার সুবিশাল ছায়ার
হাওরের প্রায় হাজারো একর আবাদী জমি অকাল বন্যার সম্মূখে রেখে প্রায় কোটি
টাকা ব্যয়ে উচু কান্দায় (উচু পতিত ভ‚মি) নির্মিত হয় বাঁধ। তারই
ধারাবাহিকতায় ২০১৯, ২০, ২১ ও ২০২২ সালেও কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়
কৃষকদের স্বপ্ন অকাল বন্যার ছোবলে রেখে। আর একারণে সংশ্লিষ্ট কৃষকগণ
জানান অপ্রয়োজনীয় স্থানে বছর বছর বাঁধ নির্মাণ করে সরকারের কোটি কোটি
টাকা তছরুপ করা হয়েছে।
শনিবার (২এপ্রিল) সরজমিন উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের সুধনখল্লি গ্রাম হ’তে
শাল্লা ইউনিয়নের সহদেবপাশা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায় ছায়ার হাওরের প্রায়
সাড়ে ৪কিলোমিটার উচু কান্দায় বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বাঁধের
পূর্ব পাশে প্রায় এক হাজার একরের বেশী আবাদী জমিকে রাখা হয়েছে দাড়াইন
নদীর ক‚ল ঘেষে। যা যেকোনো সময় তলিয়ে যেতে পারে। সরজমিনে আরো দেখা যায়, ওই
হাওরের বাঘার বাঁধ নামক স্থানে এলাকার কৃষকগণ স্বেচ্ছাশ্রমে মাটির কাজ
করছে। ওইসময় দামপুর গ্রামের প্রবীণ কৃষক আলা উদ্দিন বলেন, পিআইসি আসার
আগে আমাদের এ নদীর পাড় দিয়েই পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ দিত। কিন্তু পিআইসি
আসার পর থেকে আমাদের এই হাজারো একর জমি অকাল বন্যার ঝুঁকিতে রেখে পেছনের
উচুস্থানে বাঁধ দিচ্ছে প্রতি বছর। এবছর পানির যে অবস্থা, মনে হয় আমাদের
স্বপ্ন তলিয়ে যাবে। আমাদেরকে আবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে পাথরের কোয়ারিতে কাজে
যেতে হবে। আবার অনেককে দেখা গেছে পানির তীব্রতার কারণে অনেকটা কাচা ফসলই
কেটে ফেলছে।
জানা যায়, ছায়ার হাওরের সুধনখল্লি গ্রাম থেকে মনুয়া হয়ে সহদেবপাশা
পর্যন্ত সাড়ে ৪কিলোমিটার উচুস্থানে প্রতি বছর গড়ে কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতি
বছর প্রায় সাড়ে ১০কোটি টাকার উৎপাদিত বোরো ফসল বন্যার ঝুঁকিতে রেখে বাঁধ
নির্মাণ করছে পাউবো। কিন্তু নদীর পাড় দিয়ে সুধনখল্লি গ্রাম থেকে
সহদেবপাশা পর্যন্ত মাত্র ২কিলোমিটার স্থানে বাঁধ নির্মাণ করলে কৃষকের
কষ্টার্জিত হাজারো একর জমির বোরো ধান রক্ষার পাশাপাশি সরকারি টাকারও
সাশ্রয় হতো। কিন্তু তা না করায় পাউবো’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীদের
প্রতি এলাকার কৃষকগণ হয়েছেন ক্ষিপ্ত।
এবিষয়ে শাল্লা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস সাত্তার মিয়ার সাথে কথা হলে
তিনি বলেন, ২কিলোমিটারের স্থলে সাড়ে ৪কিলোমিটার বাঁধ করার অর্থই হচ্ছে
সরকারি অর্থের তছরুপ করা। তিনি আরো বলেন, এখানে বাঁধ নির্মাণে এলাকার
কৃষকদের দাবী প্রতি বছরই অবজ্ঞা করে সরকারি অর্থ লুটপাট করার জন্যই
ঘুরিয়ে উচু স্থানে বাঁধ দেয়া হচ্ছে।
প্রতি বছর কেনো এলাকার শত শত কৃষকের স্বপ্নকে অবজ্ঞা করে ও ২কিলোমিটারের
স্থলে সাড়ে ৪কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে জানতে শাল্লা উপজেলার শাখা
কর্মকর্তা ও সুনামগঞ্জ পওর-২ বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল
কাইয়ূমকে তার মুঠোফোনে বার বার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেনি। অপরদিকে
সুনামগঞ্জ পওর-২ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সামসুদ্দোহা’র মুঠোফোনটি
বন্ধ পাওয়া যায়।
এব্যাপারে বাপাউবো’র শাল্লা উপজেলা কাবিটা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু তালেবের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, বাঁধের
প্রি-ওয়ার্ক কাজের সার্ভে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন করেছে।
তারা কেনো এই হাজারো একর জমি বাঁধের আওতায় আনেনি তা আমার জানা নেই, আমার
কিছু করারও নেই। তবুও আমি সরজমিনে যাবো, যদি উৎপাদিত ফসলহানীর সম্ভাবনা
দেখা দেয় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান মি. তালেব।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply