হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : লকডাউনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নারায়ণগঞ্জের সেজান জুস কারখানায় কাজ করতে গিয়েছিল হবিগঞ্জের মেয়ে তুলি আক্তার (১৬) ও তাহার সঙ্গে গিয়েছিল বড় বোন লিমা আক্তার (১৯) । তুলি ও লিমা লাখাই উপজেলার ভাদিকারা গ্রামের আব্দুল মান্নানের কন্যা। সেজান জুস কারাখানার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড থেকে বড় বোন রক্ষা পেলেও নিখোঁজ রয়েছে ছোট বোন তুলি আক্তার।
লাখাই উপজেলার কালাউক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী তুলি আক্তার ও লিমা আক্তার লাখাই মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাদের বড় বোন হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজে পড়ুয়া অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী জুহি আক্তার জানান, সংসারে অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা আছে বিধায় লকডাউনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগে ২ বোন মিলে অর্থ উপার্জনের জন্য কাজে গিয়েছিল। তুলি গত (৩০ জুন) তার স্কুলে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়ে সেদিনই কর্মস্থলে ফিরে যায়।
কোরবানি ঈদের আগেই তাদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। তিনি আরো জানান, সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ড শুরু হলে লিমা নিচতলায় থাকায় বেরিয়ে আসতে পেরেছে। কিন্তু তুলি চতুর্থ তলায় ছিল। শুক্রবার দিনগত রাত পৌনে ১২ টা পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ তুলির বাবা আব্দুল মান্নান জানান, আমার ৬ মেয়ে ও ২ ছেলে। এদের মধ্যে তুলি ৫ নম্বর।
সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে গিয়ে আমার মেয়ের উচ্চ শিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন পুড়ে গেছে আগুনে। একথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি সরকারি সহযোগিতাও কামনা করেছেন। অগ্নিকাণ্ড থেকে বেঁচে ফেরা লিমা আক্তার বলেন, ২ বোন একসঙ্গে কাজ করতে গিয়েছিলাম। আমার বোন তুলি আক্তার ৪র্থতলায় আর আমি নিচতলায় কাজ করতাম। ভাবিনি একসঙ্গে কাজে গিয়ে বোনকে হারিয়ে একা ফিরবো।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply