বকুল আহমেদ তালুকদার,শাল্লা প্রতিনিধি ঃ
সুনামগঞ্জের শাল্লায় গত সোমবার রাতের দমকা ঝড়ো হাওয়া ও প্রচন্ড শিলাবৃষ্ঠিতে হাওরের বোরো ফসলের ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টির ফলে ফসলের মূখ দেখার আগেই মাথায় হাত পড়েছে কৃষকের। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ও অনেক অর্থ ব্যয়ের ফলায়িত ফসল কাচা অবস্থায় শিলাবৃষ্ঠিতে নষ্ট হওয়ায় সামনে অন্ধকার দেখছেন কৃষকরা।
সরজমিন ঘুরে দেখা যায় উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের ২, ৪, ৬, ৮ ও ৯ নং শাল্লা ইউনিয়নের ৫, ৬ , ৪ ও ৭ নং, বাহাড়া ইউনিয়নের সবকটি ওয়ার্ডেই শিলাবৃষ্টির আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। তবে আটগাও ইউনিয়নের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। উপজেলার ছায়ার হাওর, ভান্ডাবিল, ভেড়াডহর, উদগলবিল হাওরে দেখা যায় গর্ভায়িত বোরো ফসলের প্রায় ৫০ শতাংশ নষ্ট হয়েছে গত রাতের শিলাবৃষ্টিতে।
এবিষয়ে প্রতাপপুর গ্রামের কৃষক ও বাহাড়া ইউনিয়ন আলীগের সভাপতি পিযুষ কান্তি দাস জানান, ফাল্গুন মাসে এধরনের ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি আমি দেখিনি। গতরাতে শিলাবৃষ্টির ভয়ানক তান্ডবে ফসলের মূখ দেখার আগেই এলাকার কৃষকের চেহারা মলিন হয়ে গেছে। কাচা ফসলের যে অপুরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠার ক্ষমতা হারিছে সাধারন কৃষক।
শাল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জামান চৌধুরী বলেন, গতরাতের শিলাবৃষ্ঠিতে ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে তা অপুরণীয়। তবে গর্ভ ফসলে শিলাবৃষ্টির অঘাত হওয়ায় চূড়ান্ত ক্ষতির পরিমান এখন বুঝা যাচ্ছেনা। তিনি আরো জানান শিলাবৃষ্টির পাশাপাশি প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়ায় তার ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে দুটি বসত ঘর ভেঙ্গে পড়েছে।
বাহাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিধান চন্দ্র চোধুরী জানান তার ইউনিয়নে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া ১০ জন লোক আহত হয়েছে বলে এবং আহত দুজন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ও একটি বসত ঘর ভেঙ্গেছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রায় ১৫ শ হেক্টর জমির উপর গতরাতের শিলাবৃষ্টি আঘাত করেছ। এরমধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
তবে কৃষি অফিসের প্রাপ্ত তথ্য নাকচ করেছ এলাকার কৃষকরা।
Leave a Reply