1. kholilurrahman136@gmail.com : sm razu : sm razu
  2. dailyserabarta@gmail.com : editor :
  3. admin@wordpress.com : root :
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন

ধান খলায় তুলেও রক্ষা হলো না: শাল্লার হাওরে কৃষকের স্বপ্ন ডুবলো পানিতে

বকুল আহমেদ তালুকদার
  • বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬০ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার কৃষকদের দুর্দশা যেন থামছেই না। আগাম বন্যার সতর্কবার্তা পেয়ে জীবন বাজি রেখে ক্ষেতের ধান কেটে ঘরে তুলতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ধানও রক্ষা করতে পারলেন না। টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে তাদের কষ্টার্জিত ফসল। এমনকি গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে সংরক্ষিত খড়ও ভেসে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি বিভাগের আগাম সতর্কবার্তার পর থেকেই কৃষকরা তড়িঘড়ি করে ধান কাটতে শুরু করেন। শ্রমিক সংকটের কারণে দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও শ্রমিক জোগাড় করতে হয়েছে। দিন-রাত পরিশ্রম করে ধান কেটে বাড়ির সামনে কলা (ধানের গাদা) করে রাখেন তারা। কিন্তু প্রকৃতির নির্মমতায় সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।

গত ২৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণ এবং উজানের পাহাড়ি ঢলে দ্রুত পানি বাড়তে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই প্লাবিত হয়ে পড়ে হাওরাঞ্চল। বাড়ির সামনে স্তূপ করে রাখা ধানের গাদাও পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে একদিকে খাদ্য সংকট, অন্যদিকে গবাদিপশুর খাদ্য নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

একাধিক কৃষক জানান, “অনেক কষ্ট করে ধান কেটে বাড়িতে এনেছিলাম। ভেবেছিলাম কিছুটা হলেও রক্ষা হবে। কিন্তু এখন সব পানির নিচে। আমরা কী খাব, আর গরু-ছাগলকে কী খাওয়াব—কিছুই বুঝতে পারছি না।”

গবাদিপশুর জন্য সংরক্ষিত খড় (খের-বন) ভেসে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

অনেক কৃষক আশঙ্কা করছেন, খাদ্যাভাবে বাধ্য হয়ে তাদের পশু বিক্রি করে দিতে হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় কৃষকরা সরকারের জরুরি সহায়তা কামনা করেছেন। তারা দ্রুত খাদ্য ও গবাদিপশুর খাদ্য সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন, নতুবা চরম মানবিক সংকটের আশঙ্কা করছেন।

কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায় বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার প্রবণতা বেড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, বিশেষ করে নদী খনন জরুরি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াসচন্দ্র দাস জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শাল্লার বিস্তীর্ণ হাওরে এখন শুধু পানি আর পানি। কৃষকের স্বপ্ন, শ্রম আর আশার প্রতীক সোনালি ধান আজ পানির নিচে—দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক পরিবার।

সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
সেরাবার্তা © ২০২০, সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD