বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের দপ্তর স্থাপন নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। প্রশ্ন হচ্ছে—এটা কি মানবাধিকারের সুরক্ষা, না কি পরোক্ষে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের সূচনা? একটি সহজ উপমা দিই—ধরা যাক, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। স্ত্রী বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মীমাংসার বদলে সরাসরি তার ভাইকে—অর্থাৎ শালককে ডেকে আনল। শালক এসে শুধু বোঝাপড়া নয়, বাড়ির কর্তৃত্বও নিতে চাইলো। তখন ওই সংসারের সম্মান, স্বাধীনতা আর ব্যক্তিত্ব কোথায় থাকে? আমাদের দেশও একটি পরিবার। ত্রুটি-সমস্যা আছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও আছে—এ কথা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু তার সমাধান রয়েছে আমাদের সংবিধানে, আমাদের বিচারব্যবস্থায়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে, গণমাধ্যমে, এবং সক্রিয় নাগরিক সমাজে। এই ব্যবস্থা শক্তিশালী না করে যদি বাইরের শক্তিকে ডেকে এনে ঘরের দায়িত্ব দিই, তাহলে একদিন দেখা যাবে, আমাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গাটুকু আর অবশিষ্ট নেই। জাতিসংঘ বা অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা আমাদের দরকার, কিন্তু সে সহযোগিতা যেন পরামর্শের সীমায় থাকে, নিয়ন্ত্রণের রূপ না নেয়। কারণ, একবার যদি তারা “দেখভাল” করার দায়িত্ব পেয়ে যায়, তখন কীভাবে দেশ চলবে, কারা চালাবে, কারা থাকবে—সব কিছুই তাদের ইশারায় হতে থাকবে। আমরা যদি নিজের সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হই, তাহলে অন্যরা এসে সে দায়িত্ব নেবে—এটাই বাস্তবতা। কিন্তু তখন সেটা আর দায়িত্ব নয়, হবে দখল। উপসংহার: দেশের সমস্যা দেশের মানুষকেই সমাধান করতে হবে। নিজের অধিকার রক্ষার দায়িত্বও নিজের কাঁধেই নিতে হবে। না হলে “মানবাধিকার” রক্ষার নামে একদিন নিজের স্বাধীনতাকেই বিসর্জন দিতে হবে।
লেখক: মাওলানা ইমরান আহমদ উসমানী
সাধারণ সম্পাদক, যুব জমিয়ত বাংলাদেশ বানিয়াচং উপজেলা শাখা
সাংবাদিক ও ইসলামী আলোচক
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply