শাল্লা প্রতিনিধি- সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার শাল্লা ইউনিয়নের চব্বিশা গ্রামের মৃত আলী আহম্মদের ছেলে দিলুয়ার হোসেন, ইয়ারাবাদ গ্রামের রহমত মিয়ার ছেলে হাফিজুর রহমান ও বাহাড়া ইউনিয়নের ডুমরা গ্রামের প্রেমবাশি দাসের ছেলে তাপশ চন্দ্র দাস ভ‚য়া ডিবি সেজে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, একেক জায়গায় একেক পরিচয় দিয়ে থাকেন এই প্রতারক চক্রের সদস্যরা। দিলোয়ার স্থানীয় ভাবে জাতীয় দৈনিক যায়যায়দিনের পরিচয় দিয়ে থাকেন, তাপস দাস সিলেটের বিজয়ের কণ্ঠ পত্রিকার পরিচয় দিয়ে থাকে সেই সাথে হাফিজুর রহমানও একই পত্রিকার পরিচয় দেন বলে জানা গেছে।
তবে শাল্লা উপজেলায় কর্তব্যরত সাংবাদিকরা ওদের সাংবাদিক হিসেবে চিনেন না বলে জানান। তারা এলাকায় প্রতারক হিসেবে পরিচিত।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (২জুলাই) বিকেলে পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর বাজারে ভুয়া ডিবি সেজে এক মহিলা ও এক পুরুষের কাছ থেকে ১২হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে আসার পথে জনতা বিষয়টি টের পেয়ে কৌশলে তাপশ চন্দ্র দাসকে আটক করে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোাগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, শাল্লার মামুদনগর গ্রামের জনৈক রাজু দাসকে সঙ্গে নিয়ে ভ‚য়া ওই তিন ডিবি সদস্য পাহাড়পুর বাজারে গিয়ে গোপাল দাসকে ২৫গ্রাম গাঁজা সহ আটক করে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১হাজার ৯শ’ ৫০টাকা হাতিয়ে নেয় ও ৩০হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। একই ভাবে রাজুকে ব্যবহার করে পাহাড়পুর গ্রামের জনৈক হরি দাসের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীকে অন্যায় ভাবে জিম্মি করে ১০হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। সামাজিক যোগাযোাগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখা যায়, সিলেটের স্থানীয় পত্রিকা বিজয়ের কণ্ঠের স্টাফ রির্পোটার দাবিদার তাপশ চন্দ্র দাস উপস্থিত জনতার কাছে করজোরে জীবনে এরকম অপরাধ না করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করে সকলের কাছে ক্ষমা চায়।
ঐ সময় তাপশ চন্দ্র দাস আরো উল্লেখ করে চাঁদার টাকা সে নেয়নি। যায়যায় দিন পত্রিকার কথিত সাংবাদিক দিলুয়ার হোসেন নিয়েছে বলে স্বীকার করে। উল্লেখ্য, উক্ত দিলুয়ার হোসেন বিভিন্ন সময়ে ডিবি’র পরিচয়ে এধরণের অপরাধ করার বিষয়টি এলাকায় চাওড় রয়েছে।
এবিষয়ে আজমিরীগঞ্জের বদলপুর ইউনিয়নের বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক গৌরহরি সরকার, ইউপি সদস্য কৃষ্ণ তালুকদার ও গন্যমান্য ব্যক্তি গুণসিন্ধু চক্রবর্তীর সাথে কথা হলে তারা বলেন, ঘটনা সত্য। আমরা যদি অনুপস্থিত থাকতাম তাহলে জনতা ওই প্রতারক তাপশ চন্দ্র দাসকে মেরেই ফেলতো। তারা আরো বলেন, ডিবি পরিচয়ে শাল্লা থেকে আমাদের আজমিরীগঞ্জের পাহাড়পুরে এসে এধরণের প্রতারনার খবরটি ছড়িয়ে পরার সাথে সাথেই তাপশ চন্দ্র দাসের সহযোগি দিলুয়ার হোসেন ও হাফিজুর রহমান পালিয়ে যায়।
তবে ইউপি সদস্য কৃষ্ণ তালুকদার আরো জানান, শাল্লা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড. দিপু রঞ্জন দাস তাপশ চন্দ্র দাসকে ছেড়ে দিতে আমাদেরকে মোবাইল ফোনে অনুরোধ করেন।
এবিষয়ে কথিত সাংবাদিক তাপশ চন্দ্র দাসের মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ঐদিন আমি পাহাড়পুর বাজারে ‘মবের’ শিকার হয়েছি। আমি কোনো অপরাধ করিনি। তবে দিলুয়ার হোসেনকে মুঠোফোনে বার বার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply