শাল্লা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। দুই সপ্তাহ পর একদিন অফিস করে সারা মাসের উপস্থিতির অগ্রিম স্বাক্ষর করেন। মাস শেষে ঠিকই তুলে নেন পুরো মাসের বেতন। তাঁর অধীনে আরো দুজন কর্মচারী রয়েছে। তারাও গুরুর দেখানো পথে হাটছেন। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গুরু শিষ্যরা মিলে নিজেদের ইচ্চেমত অফিস চালাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, উনার অফিসে অনেক অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করছেন একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। যা একাধিক প্রমাণাধি রয়েছে এ প্রতিবেদকের কাছে। কর্মকর্তার অনুপস্থিত থাকার সুবাদে অফিসের সহকারি পরিদর্শক দেব দুলাল রায়ও একই পথের পথিক। অথচ বন্যাকালীন সময়ে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজ কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনা থাকলেও এসবকিছুর তোয়াক্কা করেনি তাঁরা।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১১ মে শাল্লায় সমবায় কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। তিনি যোগদান করার পর থেকেই দু সপ্তাহ পরপর একদিন এসে অফিস করেন। উনার এই অনুপস্থিতির কারনে অফিস সহকারি দেবদুলাল রায় এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেও অনুপস্থিত থাকে। এই অফিসে কর্মকর্তাসহ মোট তিনজন লোক রয়েছে। এর মধ্যে অফিস সহায়ক কর্মস্থলে থাকলেও অফিস তালাবদ্ধ। আর অন্য দুজন ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাড়িতে আরাম আয়েশ করে মাস শেষে এসে বেতন তুলে নেন।
বুধবার বেলা ১২ টায় সরেজমিন শাল্লা উপজেলা সমবায় অফিসে গিয়ে দেখা যায় অফিস তালাবদ্ধ। অন্যান্য অফিস খোলা থাকলেও সমবায় অফিসের দরজায় তালা ঝুলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, পাশের অফিসের এক কর্মচারী বলেন, আজ সমবায় অফিসে কেউই আসেনি। এই অফিস বেশিরভাগ দিনই তালাবদ্ধ থাকে।
এবিষয়ে শাল্লা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।
সমবায় অফিসের সহকারি পরিদর্শক দেবদুলাল রায় বলেন, আমি প্রতাপপুরে একটি সমিতির পরিদর্শনে আছি। আর আমাদের অফিস সহকারি হয়তো দরজায় তালা দিয়ে নিচে চা খেতে গেছে। আর আমাদের মুহিত স্যার ছুটিতে রয়েছেন।
অফিস সহকারি স্বপন চক্রবর্তী বলেন, আমাদের মুহিত স্যার শ্যামারচর সমিতি পরিদর্শনে গেছেন। আর দেবদুলাল বাবু ছুটিতে আছেন। অথচ শ্যামারচর দিরাই উপজেলায়।
জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদ বলেন, বন্যার সময় হয়তো অফিসার ত্রাণ বিতরণে গেছেন। খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখছেন বলে এপ্রতিবেদককে জানান।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলা উদ্দিন বলেন, সমবায় কর্মকর্তা কোনো ত্রাণ বিতরণে যায়নি। উনি উপজেলায় আছে কি না এটা সন্দেহ।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply