হার্টের লক্ষণগুলো হলো : পরিশ্রমকালীন বুকে চাপ, বুক ভার, বুক পিঠে চাপ দিয়ে ধরা, বুক ব্যথা তার সঙ্গে গলা, হাত বা পেটের উপরি ভাগে বুক ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে, শ্বাস-প্রস্বাশ ঘন হয়ে যাওয়া এবং হার্টের গতি বৃদ্ধি পাওয়া, যাকে বুক ধড়ফড় (প্যালপিটিশন) বলে আখ্যায়িত করা হয়। হার্টের অসুস্থতায় লক্ষণগুলো যেহেতু সব সময় বিদ্যমান থাকে না। পরিশ্রমে পরিলক্ষিত হয় আবার বিশ্রাম নিলে খুব তাড়াতাড়ি তা দূরীভূত হয়। কেউ এটাকে গ্যাসের সমস্যা, কেউ হাঁপানির সমস্যা, কেউ এটাকে এলার্জিক সমস্যা আবার কেউ খাওয়া-দাওয়াজনিত অবস্থা, যেমন- মাংস, পোলাউ, বিরিয়ানি বা অন্য কোনো খাদ্যের কারণে হয় বলে মনে করেন। ফলশ্রুতিতে অনেক ধরনের খাদ্য বর্জন করে দিনাতিপাত করেন। এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয় মাংস, ডিম, দুধের মতো প্রোটিন জাতীয় খাদ্যই বেশি বর্জন করার মধ্যে। কারণ অনেকে এমনটা মনে করেন যে মাছ, মাংস, ডিম অথবা দুধ খেলেই হার্টের সমস্যা হয়, তাই এসব খাবার বন্ধ করে প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ হওয়া যাবে। তবে মনে রাখতে হবে যে, প্রোটিন বর্জনের ফলে মানুষের শারীরিক যোগ্যতা কমে যায়, মানুষ দুর্বল হয়ে পড়ে। সব সময় শারীরিক যোগ্যতা বজায় রাখতে হবে, তা না হলে দুর্বল হয়ে জটিলতায় পড়তে পারেন। ফলে মানুষ আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের খাদ্য বর্জন উচিত নয়।দুর্বলতার প্রধান দুটি কারণ যেমন : হার্টের সমস্যা ও ফুসফুসের সমস্যা ছাড়াও অন্য কারণে মানুষ দুর্বল হতে পারে। যেমন-রক্তশূন্যতা, ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তি, থাইরয়েড হরমোন জনিত অসুস্থতা, লিভার ফেইলুর, ক্যানসার জাতীয় অসুস্থতা বা এর চিকিৎসা হিসেবে ক্যামোথেরাপি অথবা রেডিও থেরাপি গ্রহণ করা। এসব ব্যক্তি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন এবং সহজে হাঁপিয়ে ওঠেন। অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে উঠলে এর কারণ খুঁজতে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া বাঞ্ছনীয়।
লেখক: চিফ কনসালটেন্ট, শমশের হার্ট কেয়ার, শ্যামলী, ঢাকা।
Leave a Reply