ঢাকার সব প্রবেশপথে ৫ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি আজ: ভালো চাইলে এখনই পদত্যাগ করুন * পুলিশ ও প্রশাসনকে সরকারের অন্যায় নির্দেশ না মানার আহ্বান * দাবি আদায় করে ঘরে ফেরার ঘোষণা
সরকারের পদত্যাগে একদফা দাবিতে এবার ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে টানা ৫ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। আজ বেলা ১১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হবে। শুক্রবার নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশ থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভালো চাইলে এখনই পদত্যাগ করুন। একদফা মেনে নিন। না হলে ফয়সালা হবে রাজপথে। দেশের মানুষ আজ জেগে উঠেছে।
সরকারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে একই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি সমমনা ৩৬টি দল। তারা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করে এ ঘোষণা দেন। আর বিএনপি রাজধানীর পাঁচ প্রবেশপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। স্থানগুলো হচ্ছে-রাজধানীর গাবতলী, উত্তরা, নয়াবাজার ইউসুফ মার্কেট, শনির আখড়া এবং মুক্তি সরণি।
তবে শুক্রবার রাতে ডিএমপির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, ঢাকার প্রবেশমুখে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসংক্রান্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং জনদুর্ভোগের বিষয় বিবেচনা করে কোনো রাজনৈতিক দলকে অনুমতি দেওয়া হলো না।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রাত দেড়টার দিকে যুগান্তরকে বলেন, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে যুগপৎ ধারায় আমরা কর্মসূচি পালন করছি। আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাব। শনিবারের (আজ) কর্মসূচিও পালন করা হবে। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহযোগিতা করবে বলে আশা করি। তবে এ কর্মসূচিতে যারা বাধা দেবে তারা সন্ত্রাসী হিসাবে চিহ্নিত হবে। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য (দপ্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত) জিয়াউর রহমান জিয়া যুগান্তরকে বলেন, কর্মসূচি স্থগিতের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ে সবাইকে স্পটে যেতে দলের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরকারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার রাজধানীতে মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা যোগ দেন। বৃহস্পতিবার এ কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও অনুমতি না পাওয়ায় একদিন পেছানো হয়। সমাবেশে আসার পথে অনেক নেতাকর্মীকে বাধা ও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা সবাই এ দেশের মঙ্গল চান, আপনারা এই দেশের কল্যাণ চান। আপনারা শপথ নিয়েছেন যে, এ দেশের স্বার্থে সংবিধান অনুযায়ী কাজ করবেন। আমরাও আপনাদের কাছে সেটাই চাই। আপনারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই সমাবেশ থেকে গ্রেফতার বন্ধ করুন, বেআইনি গ্রেফতার বন্ধ করুন, হয়রানি বন্ধ করুন এবং যারা কারাগারে আছে তাদের ছেড়ে দিন।
তিনি বলেন, আমাদের কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ। প্রশাসন এ কর্মসূচি পালন করতে দিয়ে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে। সরকার সহযোগিতা করবে। গত দুদিনে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এভাবে গণগ্রেফতার করে লাভ হবে না। গণতান্ত্রিক আন্দোলন থামানো যাবে না। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারের অন্যায় নির্দেশ মানবেন না।
সরকার নির্বাচনব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে ৫ শতাংশ ভোটও পড়েনি। নেত্রকোনায় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীই ছিল না। মানুষ এখন আর ভোট দিতে যায় না। তাই পুলিশ, প্রশাসনসহ রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যেনতেনভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় আসতে চায়।
মির্জা ফখরুল বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের বাইরে থাকা দলও ঘোষণা দিয়েছে দলীয় সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে যাবে না। বিদেশিরাও বলেছে, বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে হবে। মার্কিন ১৩ কংগ্রেসম্যান সুষ্ঠু নির্বাচনে জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছে। তাই এদের অধীনে আর কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন দিতে হবে। দফা এক দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply