1. kholilurrahman136@gmail.com : sm razu : sm razu
  2. dailyserabarta@gmail.com : editor :
  3. admin@wordpress.com : root :
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন

আদমদীঘিতে কারখানার দূষিত বর্জ্যে ভরাট ইরামতি খাল, পরিত্যক্ত শশ্মান

Reporter Name
  • বৃহস্পতিবার, ১৮ মে, ২০২৩
  • ৬৯ বার পড়া হয়েছে

মিরু হাসান : বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার পৌর শশ্মানটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় চলে গেছে। এগ্রোফুড কারখানার ড্রেনের কারণে শশ্মান পরিত্যক্ত হওয়া ছাড়াও পাশের আবাদী জমির আমন, বোরো ও সরিষা আবাদ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। উপজেলার এক এগ্রোফুড কারখানার মালিক হিন্দু সম্প্রদায়ের শশ্মান ঘাটের রাস্তা কেটে ড্রেন নির্মাণ করেছেন। নির্মাণ করা ড্রেন দিয়ে তার বিশাল কারখানার পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি ও দূষিত বর্জ্য নিস্কাশন করছেন। ছাই জাতীয় বর্জ্যে ভরাট হয়ে গেছে শশ্মানের সামনে দিয়ে প্রবাহিত স্বচ্ছ পানির ইরামতি খাল। পানি অভাবে শশ্মানে সৎকার কার্যক্রম বন্ধ প্রায়।
শশ্মান পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন মুখার্জী বলেন, এখন শুধু সুইপার ও শশ্মান পাশের অতি দরিদ্র হিন্দু পরিবার অর্থাভাবে মাঝে মধ্যে তাদের মৃতদেহের সৎকার করেন। তিনি বলেন, শশ্মান সংলগ্ন খালের উপড় থাকা রেলব্রিজের উত্তর দিকে হাল্কা পরিমাণে জমে থাকা পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত দূষিত পানি কলসে বা ছোট ড্রামে করে বহন করে এনে মৃতদেহের গোসল ও সৎকার কাজে থাকা মৃতদেহের স্বজনের গোসল কার্যক্রম করতে হয়।
তিনি আরো বলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লাশের সৎকারে প্রচুর পরিমাণে স্বচ্ছ পানির প্রয়োজন হয়। সেই পানির অভাবে উপজেলার সান্তাহার শহর ও আশপাশের গ্রামের সচ্ছল হিন্দু পরিবার প্রায় অর্ধ যুগ পূর্বে ওই শশ্মানে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তারা অনেক পথ পাড়ি দিয়ে এবং তীব্র যানজট মাড়িয়ে যায় উপজেলার পাশের জেলা নওগাঁর শশ্মনে। এতে করে সান্তাহার পৌর শশ্মানটি এখন পরিত্যক্ত প্রায় অবস্থায় চলে গেছে।
জানা গেছে, সান্তহার শহর সংলগ্ন বড় আখিড়া, কোমলদোগাছি, সান্দিড়া, কাশিপুর ও পৌরসভা এলাকার তারাপুর গ্রামে কয়েক হাজার হিন্দু সম্প্রদায় মানুষ বসবাস করেন। স্বাধীনতার পর থেকে এসব হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মৃতদেহ সান্তাহার পৌর এলাকার নামা পৌঁওতা রেলব্রিজের নিকট ইরামতি খাল পাড়ে উন্মুক্তভাবে দাহসহ সৎকার কার্যক্রম সম্পাদন করা হতো। প্রায় ২০ বছর পুর্বে পৌরসভা ও শশ্মান পরিচালনা কমিটি থেকে চুল্লি স্থাপন, মৃতদেহ ধোয়ার পাকা ঘর, বৈঠকখানা ও কালীমন্দির নির্মাণ করা হয়। তখন থেকে শহর ও গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষরা অল্প সময় ও অর্থ ব্যয়ে ওই শশ্মানে তাদের সম্প্রদায়ের মৃতদেহের সৎকার কার্যক্রম সম্পন্ন করে আসছিল। পরবর্তীতে ওই শশ্মান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পূর্বে হাফেজ বেলাল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী বুসরা অটোমেটিক রাইস মিল, বুসরা এগ্রো ফুড এবং কৃবা অটোমেটিক রাইস মিল নামে কারখানা নির্মাণ করেন। কারখানায় সৃষ্ট পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি এবং বর্জ্য নিস্কাশনের জন্য তিনি মিটারগেজ রেলসড়কের ঢালের গোড়া কেটে ইরামতি খাল পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ করে।
শশ্মান পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ দাবি করেন ড্রেনের স্থান ছিল শশ্মানে মৃতদেহ ও খড়িসহ সৎকারে প্রয়োজনীয় মালামাল বহনের ভ্যান চলাচলের কাঁচা রাস্তা। পরে ওই কারখানা মালিক হাফেজ বেলাল হোসেন কাঁচা রাস্তা কেটে ড্রেন নির্মাণ করে শশ্মানে চলাচল বন্ধ করে দেয়। কারখানা মালিক বড় ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী হওয়ার কারণে প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা। তবে সুইপার জনগোষ্টির নেতৃবৃন্দ পৌরসভার মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টুকে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন। তিনি সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও অদ্যাবধি কোন সুরাহা হয়নি।
এ বিষয়ে সুন্দরী অটো রাইস, বুশরা ও নিউ বুশরা এগ্রোফুড এবং কৃবা অটোমেটিক রাইস মিল কারখানার মালিক হাফেজ মোহাম্মদ বেলাল হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ড্রেন করেছি তো প্রায় এক যুগ আগে রেলওয়ের জায়গা দিয়ে। এ কারণে শশ্মানে চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে এই কথাটা কেউ আমাকে জানায়নি। আমি কারো ক্ষতি করে ব্যবসা করতে চাই না। ড্রেন পাশের জমির মালিকরা তাদের ক্ষতির কথা জানানোর পর আমি অনেক দূর পর্যন্ত ড্রেন পাকা করে দিয়েছি। শশ্মান কমিটির নেতৃবৃন্দ আমার সাথে দেখা করে তাদের সমস্যার কথা জানালে আমি তাদের সমস্যাও সমাধান করে দেব। অবশিষ্ট কাঁচা অংশ খুব দ্রুত পাকা করে দেব।

সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
সেরাবার্তা © ২০২০, সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD