শেফালী আক্তার রাখি,বিশেষ প্রতিনিধিঃ সুন্দরবনে এ যেন এক বিরল দৃশ্য সবার সামনেই পুকুরে নেমে মিষ্টি পানি পান করলো সুন্দরবনের দুটি বাঘ। তখন দুপুর দুইটা। পানি পান এবং বিশ্রাম শেষে শান্ত ভঙ্গিতে বনে প্রবেশ করলো আবার। না এখানেই শেষ নয়। বাঘ দুটি সামান্য পথ ঘুরে অবস্থান নিলো রান্না ঘরের পাশে। সন্ধ্যার পরে আরও একটি বাঘ যোগ দেয় সেখানে। এ অবস্থায় রুদ্ধশ্বাস রাত কেটেছে বনরক্ষিদের । সকালে উঠেও দেখেছেন সেই বাঘ। অবস্থান করছিলো শনিবার বেলা ১০ টা পর্যন্ত। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে পূর্ব সুন্দরবনের সুপতি ষ্টেশনাধীন চান্দেশ্বর ফরেষ্ট অফিসে।
চান্দেশ্বর ক্যাম্পের বনরক্ষি তরুন মজুমদার জানান,সুন্দরবনে অনেক বছর চাকুরী করলেও তারা এমন পরিস্থিতির শিকার হননি কখনো। এর আগে কখনো জনসমুক্ষে বাঘ আসতে দেখেননি। প্রকাশ্যে বাঘের এমন অবস্থান তাদের মধ্যে শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে বাঘ বনের মধ্যে চলে যাওয়ায় এখন স্বস্তিতে রয়েছেন তারা।
চান্দেশ্বর ফরেষ্ট ক্যাম্প ইনর্চাজ ফারুক শেখ মুঠোফোনে জানান, শুক্রবার দুপুর ২ টা থেকে তিনটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার তাদের প্রায় ২৪ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তিনি আরও জানান, প্রথমে বাঘ দুটিকে পুকুর পাড়ে দেখে ভয় পেয়ে যান তারা। তিনি সহ অপর ৪ বনরক্ষি দ্রুত রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন । বাঘ দুটি পুকুরে নেমে পানি পান শেষে কিছু সময় পুকুর পাড়ে বিশ্রাম নেয়। পরে সামান্য পথ ঘুরে এসে অবস্থান নেয় রান্না ঘরের পাশে। সেখানে এদুটি বাঘের সাথে পরে আরও একটি বাঘ যোগ দেয়। সারা রাত পুকুর পাড়ে এবং রান্না ঘরে অবস্থান নেয় বাঘ তিনটি। এ অবস্থায় রান্না ও খাওয়া দাওয়াও বন্ধ হয়ে যায় অফিসের ৫ বনরক্ষির। সকাল বেলাও উঠে দেখেন বাঘ তিনটি অফিসের অদূরে বনে ঘোরাঘুরি করছে। শনিবার বেলা ১০ টার দিকে অফিস চত্বর ত্যাগ করেবাঘের দল।
সুন্দরবন ওয়াইল্ড টীমের সদস্য আবুল আসলাম তুহী জানান, প্রজনন প্রিয়র্ডে বাঘ এ ভাবে অস্থির সময় কাটায়। তারা ওই জায়গাটিতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করার কারনে দীর্ঘ সময় অবস্থান নিয়েছে হয়তো।
এ ব্যাপারে শরণখোলা রেঞ্জকর্মকর্তা সামসুল আরেফিন জানান, যেহেতু বাঘের প্রজনন মৌসুম চলছে। তাই তাদের আচরণ এভাবে হতে পারে। স্বাভাবিক সময় বাঘ সাধারণত এ রকমের আচরণ করেনা। তারা নিসঙ্গই থাকতে পছন্দ করে। তিনটি বাঘ শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার বেলা ১০ টা পর্যন্ত চান্দেশ্বর অফিস এলাকায় অবস্থান নিয়েছিলো। তাদের অবস্থান বা চলাচলে কোন বিঘ্ন ঘটানো হয়নি। নিজেদের থেকেই আবার তারা বনে ফিরে গেছে। স্থানীয় বনরক্ষিদের সর্তক থাকতে বলা হয়েছে।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply