১৩ জানুয়ারী রাতে ডাকাত পরেছে পরেছে সকলে সাবধানে অবস্থান করুন, মাইকের এররূপ বিকট শব্দে ঘুম থেকে জেগে উঠেন অনেকে৷ পরক্ষণেই মনের মাঝে সঞ্চার হয় আজানা ভীতি। জীবনে প্রথম ডাকাতের ভয়ে ঘুম ভাঙার অভিজ্ঞতা হয় আমার। পরিবারপরিজন ও পাড়াপ্রতিবেশি নিয়ে সমস্ত গ্রাম ঘেরাও দিয়ে ডাকাতদের ধরা হয়েছে। বাকীসদস্যরা পালিয়ে গেছে,তাদেরকে ধরতেই মাইকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এমনভাবেই গতরাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছিল পালাসুতা গ্রামের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রানা আহমেদ।
গতকাল শুক্রবার প্রথম প্রহরে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগরের দারোরা ইউপির পালাসুতা গ্রামে স্থানীয়দের সম্মিলিত পুলিশিং টহলে ডাকাত পরেছে সকলের নিকট সংবাদ পৌঁছালে সমস্ত গ্রাম ঘেরাও করে ৩জন ডাকাতির উদ্দেশ্যে আশা লোকেদের ধরে গণধোলাইয় দেয় আবালবৃদ্ধবনিতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশকিছুদিন ধরে পার্শ্ববর্তী গ্রামে ডাকাতের উৎপাতে ভীতি নিয়ে বসবাস করছিল সকলে। দেশীর অস্ত্র নিয়ে মাইক্রোবাস যোগে ঘুরছে একদল ডাকাত এরূপ তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল পুলিশিং টহলে গ্রামবাসীর হাতে ধরা পরে ডাকাত দলের তিনজন সদস্য। পাশেই চলমান মাহফিল দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হয় যেন ডাকাত দলের অপর সদস্যরা আশ্রয় নিতে ব্যর্থ হয়। স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়লে তাদেরকে গণপিটুনি দেওয়া শুরু করে ক্ষুব্ধ জনতা। ডাকাত দলের অপর সদস্যরা পালিয়ে যায় দ্রুত ফলে তাদের ধরতে ব্যর্থ হয় সকলে।পরবর্তীতে গ্রামবাসী ও ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় কর্তব্যরত পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয় ডাকাত তিনটিকে।
পার্শ্ববর্তী গ্রামের মো.সালাউদ্দিন বলেন, গ্রামে ডাকাত পরেছে শুনে প্রথমে ঘর থেকে বের হইনি। পরে যখন জানতে পারি ওদেরকে গণপিটুনি দিচ্ছে তখন এইগ্রামে এসেছি ডাকাত দেখতে। সকলের মাঝে অনেক ভয়ভীতি বিরাজ করছে। আজকে এখানে আগামীকাল আমার বাড়িতে কিংবা আমার গ্রামেও হতে পারে। পুলিশের উচিত টহল আরো বৃদ্ধি করা। মনে ভয় নিয়ে আর কতদিন এভাবে বসবাস করবো? এই গণপিটুনি দেখে আশা করি অন্য ডাকাতরা কিছুটা হলেও শঙ্কিত থাকবে ডাকাতি করতে।
মুরাদনগর থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হলে নুরু ও ইসমাইল এর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে শাহ জাহান।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply