1. kholilurrahman136@gmail.com : sm razu : sm razu
  2. dailyserabarta@gmail.com : editor :
  3. admin@wordpress.com : root :
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন

শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিম্নমাণের খাবার ভাতের সাথে বালী ও পাথর

শাল্লা(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
  • বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২২
  • ৬০ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের শাল্লায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের রোগীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হাসপাতালটির রোগীদের খাবার সরবরাহ করার জন্য ২০২১-২২ অর্থ বছরে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ নামে এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাবার সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

হাসপাতালে সরেজমিন দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির পরিবেশ নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত।

প্রতিদিন সকালে রোগীদের দুইটা পাউরুটি, এক চা চামচ চিনি এবং দুপুরে সিলভারকাপ মাছ, মোটা চালের ভাত, ডাল ও ভাজি মেশানো তরকারি দিতে দেখা যায়। মোটা চালের ভাতে বালি ও পাথর মেশানো থাকে। তবে রাতে কোনো খাবার দেয়নি বলে রোগীদের অভিযোগ।

কিন্তু টেন্ডারের শর্ত অনুয়ায়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালটিতে সপ্তাহে রোগীদের চারদিন মাছ এবং দু’দিন মাংস দেওয়ার কথা।

প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর জন্য প্রতিদিন ১২৫ টাকা খাবারের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ রয়েছে। প্রতিদিন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের সকালে দুইটি পাউরুটি, দুইটি সিদ্ধ ডিম, একটি কলা, ২০ গ্রাম চিনি। দুপুরে ও রাতে ১০০ গ্রাম মাছ, ২০০ গ্রাম ভাত, ২০ গ্রাম ডাল এবং পরিমাণ মত সবজি দেওয়ার কথা। কিন্তু সিলভারকাপ, বার্মিজ রুই, তেলাপিয়া মাছ, মোটা চালের ভাত, পচা-বাসি তরকারিসহ নিম্নমানের খাবার পরিবেশন ও পরিমাণে কম সরবরাহ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাহাঙ্গীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

রোগীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি কয়েকবার বলার পরও কোনো কর্ণপাত করেনি ঠিকাদারের নিযুক্ত লোকজন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আনন্দপুর গ্রামের ছামিয়া বেগমসহ আরো কয়েকজন বলেন, তিনদিন যাবত হাসপাতালে ভর্তি। সকালে দুইটা পাউরুটি আর একটু চিনি দিছিলো, রুটি বাসি থাকায় খাইতে পারি নাই। দুপুরে অল্প কয়টা ভাত দিছিলো সঙ্গে আধা পিস (হাফ) মাছ দিছিলো লগে আবার তরকারিও দিছে। মাছ অপরিষ্কার থাকায় খাওয়া যায় নাই তাই ফালাইয়া দিছি, আবার রাতে খাবারও দেয় না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, এখানে চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের সাথে হাসপাতালের তিন চারজন লোক জড়িত আছে। এজন্যই নিম্নমাণের খাবার দেয়ার পরও তাদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বার বার বলার পরেও খাবারের মান ভালো করছে না। বেশি কিছু বলতেও পারি না যদি কোনো ঝামেলা করে।

চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, খাবার নিয়ে কেউ কোনোদিন অভিযোগ করেনি। আর ভাতে বালি ও পাথর পাওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। কারন চাল বাজার থেকে কিনে দেই। বস্তার ভেতরেতো আর আমরা চেক করতে পারিনা।

শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেলিনা আক্তার বলেন, খাবারের বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের কথা স্বীকার করেন বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব গ্রহন করেছি। দায়িত্ব গ্রহনের পরই দেখতে পাই নিম্নমানের খাবার পরিবেশন। এরপরই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার জানানো হয়েছে সকালের পাউরুটিসহ যাবতীয় খাবার মান বাড়ানোর জন্য। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাহাঙ্গীর চৌধুরী জানান, সকালে পাউরুটি ঠিকমতো দেয়া সম্ভব নয়। তবে নিম্নমানের খাবারের বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন ধরে মনিটরিং টিম কাজ করছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ভাল খাবার পরিবেশনের জন্য বলা হয়েছে।#

সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
সেরাবার্তা © ২০২০, সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD