মোঃ হাফিজুর রহমান চৌধুরী
আলকোরআনে সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন,
‘যখন শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে
তখন তারা কবর হতে উঠে
তাদের অভিমুখে ছুটতে থাকবে।’
‘এরপর যখন শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে
তা হবে একটি মাত্র ফুঁ।’
এ আয়াত দুটি হতে বুঝা যায়
শিঙায় ফুঁ দেওয়ার সাথে সাথে
এ দুনিয়া চূর্ণবিচূর্ণ হবে
তখনই কেয়ামত সংঘটিত হবে।
রাসূল সা. বলেছেন,
‘শিঙায় ফুঁ দেওয়ার পর
আমি প্রথম মাথা ওঠাব।’
হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত,
মহানবী সা. বলেছেন,
‘কেয়ামতের দিন মানুষকে উলঙ্গ দেহে
খতনাবিহীন কনডিশনে কবর হতে
হাশরের মাঠে জমায়েত করা হবে
এ কথা শুনে আমি প্রশ্ন করলাম,
হে আল্লাহর রসুল!
নারী পুরুষ সবাই কি উলঙ্গ হবে?
তারা কি একে অন্যের প্রতি তাকাবে?
এরূপ হলে তো খুবই লজ্জার সাবজেক্ট।
আনসারে তিনি বললেন,
হে আয়েশা! কেয়ামতের দিনটি এত ভয়াবহ
ও বিপন্ন হবে যে,
সেদিন কেউ কারও দিকে তাকানোর খেয়ালও থাকবে না।’
মহান প্রভু বলেন,
‘আর ভুমন্ডল ও হিলগুলোকে উঠিয়ে নেওয়া হবে,
এরপর উভয়টাকে একেবারেই চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া হবে।
ঠিক সেদিনই মহাঘটনাটি সংঘটিত হবে,
সেদিন আকাশ ফেটে পড়বে,
তারপর তা বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে।’
দুবার শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে,
ফার্স্ট ফুঁতে জমিন ও আসমানের মধ্যবর্তী অল ধ্বংস হয়ে যাবে
এন্ড সেকেন্ড ফুঁতে পুনরায় সকল মৃত পুনরায় জীবিত হয়ে উঠবে।
মহান আল্লাহ বলেন,
‘সেদিন মানুষ নিজের ভাই, মা, বাপ, স্ত্রী,
ছেলেমেয়েদের হতে পালাতে থাকবে,
সেদিন প্রত্যেক পারসন নিজের অবস্থার মধ্যে
এমনভাবে লিপ্ত থাকবে যে
তার কারও কথা মনে থাকবে না।’
মহান প্রভু বলেন,
‘হে ইমানদারগণ! তোমরা সেই দিনটিকে ভয় কর
যেদিন একজন আরেকজনের কোনোই কাজে আসবে না,
একজনের নিকট আরেকজনের কোনো সুপারিশও একসেপ্ট করা হবে না।
মুক্তির জন্য কারও নিকট হতে কোনো মুক্তিপণ নেওয়া হবে না।
না তাদের সেদিন কোনো হেল্প করা হবে।’
সূরা জিলজালে পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন,
‘যখন প্রচন্ড ঝাঁকুনি দিয়ে দুনিয়াকে প্রকম্পিত করা হবে
এন্ড দুনিয়া তার মধ্যে রক্ষিত বোঝাগুলো বের করে দেবে
তখন মানুষ দিশাহারা হয়ে বলতে থাকবে তার কী হয়েছে?
কেয়ামতের দিন সবার দৃষ্টিতে ধাঁধা লেগে যাবে,
ফলে চোখ কোনো স্থির জিনিস দেখতে পাবে না।
আগুন জ্বালানোর পর পতঙ্গ যেমন বিক্ষিপ্ত হয়ে
আগুনের দিকে ছুটে আসে
সেদিন মানুষ তেমনিভাবে হাশরের মাঠে ছুটে আসবে।
সেদিন সমস্ত পৃথিবীর ম্যানেজমেন্ট লন্ডভন্ড হয়ে যাবে।
পাহাড়গুলো ধোনা পশমের মতো হয়ে যাবে
যা বাতাসে উড়তে থাকবে।
রাসুল সা. ঘোষণা করেছেন,
‘যখন কেয়ামত ঘনিয়ে আসবে
তখন মানুষের আমল কমে যাবে,
অন্তরে কৃপণতা ঢেলে দেওয়া হবে
এন্ড হারজ বৃদ্ধি পাবে।
(সাহাবিরা জানতে চাইলেন হারজ কী?
তিনি বললেন, হত্যা হত্যা।’)
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply