1. kholilurrahman136@gmail.com : sm razu : sm razu
  2. dailyserabarta@gmail.com : editor :
  3. admin@wordpress.com : root :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন

বর্ষার পানি নামতেই বেরিয়ে আসছে ভাঙাচোরা সড়ক, ঝুঁকিতে লক্ষাধিক মানুষ

বকুল আহমেদ তালুকদার
  • বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন ডুবন্ত সড়কের বেহাল দশা দেখা দিয়েছে। বর্ষার পানি নামতে শুরু করায় একের পর এক দৃশ্যমান হচ্ছে সড়কের ভাঙাচোরা অংশ। কোথাও সড়কের দুই পাশ দেবে গেছে, কোথাও ভেঙে পড়েছে পাকা অংশ। আবার কোথাও সড়ক ও কালভার্টের সংযোগস্থলে সৃষ্টি হয়েছে বিপজ্জনক গর্ত। ফলে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়কগুলোর বিভিন্ন অংশ যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, হাওরাঞ্চলের শাল্লা উপজেলায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে প্রায় চার মাস অধিকাংশ ডুবন্ত সড়ক পানির নিচে থাকে। বাংলা আশ্বিন মাসের শেষ ও কার্তিক মাসের শুরুতে পানি কমতে থাকলে সড়কগুলো আবার দৃশ্যমান হয়। কিন্তু এবার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সড়কের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠছে।

বিশেষ করে শাল্লা সদর ঘুঙ্গিয়ারগাঁও থেকে দক্ষিণ দিকে উপজেলার ৩ ন় বাহাড়া ইউনিয়ন ও ৪ নঃ শাল্লা ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও দেবে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ সড়কের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনে সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে সড়কের কান্দিগাঁও এলাকায় অবস্থিত পুরোনো সেতুটির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের পুরোনো সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। সেতুটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর সড়কগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দৃশ্যমান হলেও স্থায়ী সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। ফলে বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাওরপাড়ের মানুষকে।

তাঁরা জানান, কার্তিক মাস থেকেই হাওরাঞ্চলে সড়কপথে যানবাহন চলাচল বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও কৃষিপণ্যবাহী যানবাহনসহ বিভিন্ন পরিবহনের চাপ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়বে।

এলাকাবাসীর দাবি, হাওরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে কার্তিক মাসের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, কালভার্টের সংযোগস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিবছর একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজন টেকসই পরিকল্পনা ও স্থায়ী ব্যবস্থা।

এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সড়কগুলো থেকে সবেমাত্র পানি নেমে শুকাতে শুরু করেছে। পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে সংস্কারের সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।’

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিষয়ে আমি খবর পেয়েছি। বিশেষ করে কান্দিগাঁও এলাকার সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। বিষয়টি নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। নতুন সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণের ব্যবস্থা করা গেলে স্থানীয় মানুষের চলাচলে সুবিধা হবে।’

হাওরাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অন্যথায় শুষ্ক মৌসুমে যোগাযোগব্যবস্থা সচল হওয়ার পরিবর্তে এসব ভাঙাচোরা সড়কই হয়ে উঠতে পারে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
সেরাবার্তা © ২০২০, সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।
Developer By Zorex Zira

Designed by: Sylhet Host BD