সুনামগঞ্জের শাল্লায় দীর্ঘদিন ধরে লো-ভোল্টেজ ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ থাকলেও পর্যাপ্ত ভোল্টেজ না থাকায় মোটর চালানো যাচ্ছে না, ঠিকমতো জ্বলছে না বাতি ও ঘুরছে না ফ্যান। পাশাপাশি ভোল্টেজ ওঠানামায় ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার পাশাপাশি যখন বিদ্যুৎ আসে, তখনও অনেক সময় ভোল্টেজ এত কম থাকে যে স্বাভাবিকভাবে কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো সম্ভব হয় না। ফলে বিদ্যুৎ থাকা আর না থাকা একই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “লো-ভোল্টেজ ও বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ঘরের ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র সব নষ্ট হওয়ার পথে। এভাবে আর কতদিন চলতে হবে বুঝতে পারছি না।
ডুমড়া গ্রামের জুসেন দাস বলেন, আমাদের গ্রামে যে ভোল্টেজ থাকে, তা দিয়ে মোটর চলে না। বাতি কোনো রকমে জ্বলে। তার ওপর দিনে দুই-তিন ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাই। এতে মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।
মুসলিমপাড়ার নয়ন সরকার বলেন, এখন আর চলার মতো অবস্থা নেই। বিদ্যুতের এমন দুরবস্থা হয়েছে যে, বিদ্যুৎ থাকা আর না থাকা একই কথা।
এদিকে, লো-ভোল্টেজ ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ২৪ ঘণ্টায় ১২ ঘণ্টা নামমাত্র বিদ্যুৎ দেওয়ার চেয়ে কম সময় হলেও পর্যাপ্ত ভোল্টেজসহ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে দিরাই-শাল্লার আবাসিক প্রকৌশলী পরশুরাম তরফদারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ভাই, আমি কী করব? আমি চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছি না, আপনাদেরও দিতে পারছি না। খোঁজ নিয়ে দেখেন, সুনামগঞ্জ শহরেও একই অবস্থা।
স্থানীয়রা দ্রুত লো-ভোল্টেজ সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং স্বাভাবিক ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Designed by: Sylhet Host BD
Leave a Reply